1. abulkasem745@gmail.com : abulkasem745 :
  2. Amranahmod9852@gmail.com : Amranahmod Amranahmod : Amranahmod Amranahmod
  3. Arafathussain736@gmail.com : Arafathussain736 :
  4. didar.kulaura@gmail.com : didarkulaura :
  5. Press.loskor@gmail.com : Press loskor : Press loskor
  6. Rezwanfaruki@gmail.Com : HolyBd24.com :
  7. Sohelrana9019@gmail.com : M Sohel Rana : M Sohel Rana
  8. syedsumon22@yahoo.com : syed sumon : syed sumon
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কোরবানপুর যুব সমাজের উদ্যোগে দেশের এবং প্রবাসীদের অর্থায়নে অবহেলিত রাস্তার আংশিক মেরামতের কাজ শুরু ভগ্নিপতির সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ায় খুন হন মান্নাত ওসির মানবিকতায় স্মৃতি হারানো কিশোরী ফিরল স্বজনদের কাছে উৎসাহ ও উৎসবমূখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন মোংলা-খুলনা মহাসড়কে ভোগান্তির শেষ নেই খুলনায় পূজামন্ডপে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ৬ হাজার ৬০ জন আনসার সাতক্ষীরায় ৫১ বোতল ফেন্সিডিল সহ গ্রেফতার-১ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর, হাজী সেলিমের ছেলেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা পরকীয়া করে মাকে বিয়ে করায় ‘ভাড়াটে দিয়ে খুন’ অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন প্রশাসন সচিবের আশাশুনির বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর জীবন- জীবিকার সংগ্রাম যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী

প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৮ বার ভিউ

মোঃ আমির হোসেন, তাহিরপুর প্রতিনিধি::
জীবন- জীবিকার সংগ্রাম যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। নাম বতার মোছা: সাফিয়া বেগম। বয়স ৬০ কিংবা ৬৫ ছোঁয় ছোঁয়। গ্রাম তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের গাঘড়া গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী । স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর আগে।
সংসারে ২ মেয়ে আর নিজেকেনিয়ে ৩ জন। অতি দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় সোফিয়া বেগমের সংসার চলত স্বামী আর নিজে অন্যের বাসা বাড়ি কিংবা খেতে খামারে কাজ করে। মাথা গোজাঁর নিজের বাড়ি টুক ছাড়ে তাদের ছিলনা কোন জমিজমা । স্বামী মারা যাবার পর সোফিয়া বেগম এলাকা ও গ্রামবাসীর সহযোগীতায় ২ মেয়ের বিয়ে দিয়ে এখন বড় একা। দেখভাল করার মতো সাফিয়া বেগমের কোন ছেলে সন্তান থাকায় এই বৃদ্ধ বয়সেই দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাতে এখন নিজের নেমে পড়েছেন জীবন আর জীবিকার সংগ্রামে। এই বয়সে তার আয়-রোজগার বা কামকাজ করার মতো ক্ষমতা না থাকলেও সাফিয়া বেগম কারো মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের অন্ন যোগাতে পুরুষের সাথে নৌকা করে হাতে ঠেলা জাল, লোহার রড, বেলচা আর চালনা নিয়ে কয়লা কুড়াতে নেমে পড়েছেন যাদুকাটা নদী বুকে । এই বৃদ্ধ বয়সে সাফিয়ার জীবন সংগ্রামের সাথে সঙ্গী হয় গাঘড়া গ্রামের মৃত সমসু মিয়ার স্ত্রী রহিমা (৫৫), একই গ্রামের মৃত সুরাফ মিয়ার স্ত্রী কমলা বেগম(৫৫) সহ ৪ জন। গতকাল সরেজমিনে তাহিরপুর উপজেলার গাঘটিয়া বড়টেক এলাকার সীমান্ত নদী যাদুকাটা তীরে গেলে দেখা হয় তাদের সাথে। পরে কথায় কথায় এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের দুখের কথা জানায়, সাফিয়া, রহিমা, কমলাসহ ৪ জনের একটি গ্রুপ। তাদের ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের স্বামী না থাকায় সংসারের দায়ভার পুরোটাই তাদের। প্রতিদিন ভোর ৫ টার সময় ঘুম থেকে উঠে বেলছা, ঠেলা জাল, লোহার রড, চালনা নিয়ে একটি বারকী নৌকা করে হাতে বেয়ে গাঘড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে চিলার বাজার এলাকার যাদুকাটা নদীর বালি চড়ে কয়লা কুড়াতে আসেন তারা। সীমান্ত নদী যাদুকাটার মাঝে হিমশীতল পানিতে নেমে প্রথমে লোহার রড দিয়ে কুচা মেরে পানির নিচে কয়লা আছে কিনা তা আন্দাজ করে। এই বৃদ্ধ বয়সে বালু চড়ের কখনো কোমড় পানি, কখনো বুক পানি আবার কখনো গলা পানির নিচে বালুর সাথে মিশ্রিত কয়লা প্রথমে বেলছা দিয়ে ঠেলা জালে নিয়ে পানির উপরে উঠিয়ে নিয়ে আসে। পরে ওই বালু মিশ্রিত কয়লা চালুন (চালনা) দিয়ে পানির মধ্যে ভালো করে ধুয়ে কয়লা গুলো নৌকায় রাখে তার। প্রতিদিন ভোর সকল ৫ থেকে বিকাল ৫ টা পযর্ন্ত চলে ভারত থেকে ভেসে আসা যাদুকাটা নদীর বুকে পানি আর বালির নিচ থেকে কয়লা সংগ্রহ করার জীবন সংগ্রাম। এ যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সারাদিনের এইরকম হাড়ভাঙ্গা খাটুনি আর পরিশ্রমের পর ৪ জনের মিলে ৮ থেকে ১০ বস্তা কয়লা। পরে ওই কয়লার বস্তাগুলো যাদুকাটা নদীর তীরের বড়টেক ও শিমুল বাগান এলাকায় নিয়ে এসে মহাজনদের কাছে প্রতি বস্তা কয়লা কোনদিন সাড়ে ৩০০, কোনদিন ৪০০ আবার দাম ভালো থাকলে সাড়ে ৪০০ টাকাও বিক্রি করেন তারা।
এসময় শুভ প্রতিদিনকে কমলা বেগম জানান, স্বামী মারা যাবার পর তাদের সংসারে ১ মেয়ে ও ২ ছেলে নিয়ে ৪ জন সদস্য। তাই বাধ্য হয়েই স্বামীর পরিবর্তন নিজেই সংসারে হাল ধরেছেন। বাবারে কি কমু। থাহার ( থাকার) মত নিজের বাড়িও নাই।অন্যের বাড়িতে থাহি। করোনা ভাইছাব(করোনাভাইরাস) না কি কয়! আইছে, এইডা আইয়াই সব শেষ কইরা দিছে। আগেত নদী চলছে। খনে বালুর কাম, খনে পাত্তরে( পাথরের) মেইলে কাম কইরাই পুলা মাইয়া লইয়া ৩ বেলার মাইঝে ১ বেলা খাইতাম পারছি। এই করোনাভাইছাব আওয়ার পরে সব বন্ধ হইয়া গেছে। দিনের পর দিন না খাইয়া রইছি পুলা মাইয়া নিয়া। এর পরে আইছে আরেক গজব। উডাউডি( পর পর) ৩ বার আইছে পানি( বন্যা)। এই কুরুনা আর বন্যার মাঝে সরহার( সরকার), চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ কোনোতা( কিছুই) দিছেনা। তাই মাইনষের দেহাদেহি নদীত কয়লা টুহাই। স্বামী মরার পর থাইকাই এই নদীতে কাম কইরাই সংসাই চলাই তাছি। এক ছেলেরে হাই স্কুলয় লেহাপড়া( পাড়াশোনা) করে। পুলা এহন টেনে( দশম শ্রনী) পড়ে। আর মাইয়া পড়ে মাদ্রাসায়। নদীতে কাজ না থাকলে দিনের পর দিন না খাইয়া থাকতে হয়।
শুধু সাফিয়া, কমলা আর রহিমাই নায়! সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার প্রাকৃতিক সম্পদ আর সুন্দরর্যে ভরপুর সীমান্ত নদী যাদুকাটায় প্রতিদিন ভোর সকল থেকে বিকাল পযর্ন্ত তাদের মতো হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক- যুবতী, আবাল-বৃদ্ধার এই নদীর বুকে জীবন জীবিকার সন্ধানে কয়লা সংগ্রহে প্রতিদিনই চলে সংগ্রাম। এই করোনাকালীন সময়ে পরপর তৃতীয় দফা বন্যায় উজানের মেঘালয় পাহাড় থেকে ঢ্লের পানিতে যাদুকাটা নদীতে ভেসে আসা বালু মিশ্রিত কয়লা যেন এ অঞ্চলের মানুষের যেন আশীর্বাদ।
জানাযায়, বিগত মার্চ মাস থেকে সারা বিশ্বে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ৬ মাস ব্যবসা- বাণিজ্য, কলকারখানা, নদীনালা সবকিছুই বন্ধ গিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ চরম বিপর্যয়ে পরে ছিল। কিন্তু গত মাস খানেক অাগে পরপর হশে যাওয়া তৃতীয় দফা বন্যায় উজানের মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢলের সাথে যাদুকাটা নদীতে নেমে আসে প্রচুর পরিমাণ বালু ও কয়লা। উক্ত যাদুকাটা নদীর পানিতে বালু মিশ্রিত কয়লা সংগ্রহ করতে তাহিরপুর উপজেলাসহ আসপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার হাজার হাজার নারী-পুরুষ যাদুকাটা নদীতে কয়লা সংগ্রহ করতে পানি আর বালির সাথে ভোর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের সংগ্রাম। জীবন বাচাতে জীবিকার খোঁজে যাদুকাটা নদীর বুকে পানি আর বালির নিচ থেকে আরোহীত কয়লা বিক্রি করেই চলে সাফিয়া, রহিমা অার কমলার মতো হাজার হাজার হতদরিদ্র অার শ্রমজীবী পরিবারের সংসার।
পরে সংগৃহিত কয়লা সন্ধ্যায় মহাজনদের নিকট বিক্রি করে প্রতি বস্তা ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকায় । কেউ কেউ অাবার বাড়ির জ্বালানির কাজে ব্যবহার করার জন্য কয়লা সাথে থাকা অবশিষ্ট কুটকড়ি(লাকড়ি) বাড়ির জ্বালানি কাজে ব্যবহার করা জন্য বাড়ি ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে যায়।

নিউজ টি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর

উপদেষ্টা মন্ডলী

কাউন্সিলর এডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম,
এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমদ,
প্রভাষক ডাঃ আক্তার হোসেন,
প্রকাশনা ও সম্পাদক রেজওয়ান আহমদ,
প্রধান সম্পাদক কবি এম এইচ ইসলাম,
বার্তা সম্পাদক এমরান আহমদ,
ব্যবস্হাপনা সম্পাদক আব্দুল আলী দেওয়ান আব্দুল্লাহ,
সহ ব্যবস্হাপনা সম্পাদক আমির হোসেন,
সাহিত্য সম্পাদক কবি সোহেল রানা,
বিভাগীয় সম্পাদক আমিনুর ইসলাম দিদার

© All rights reserved © 2020 Holybd24.com
Design & Developed BY Serverneed.com