Sun. Feb 23rd, 2020

Holybd24.com

Online News Paper

তালতলীতে সরকারি খাল দখলের মহা উৎসব; প্রশাসন নিরব ভুমিকায়

মো. মিজানুর রহমান নাদিম, বরগুনা প্রতিনিধি : সারা দেশে যখন খাল নদী দখলের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এমন সময় চলছে বরগুনা তালতলী উপজেলার ৪৭নং মৌজার আওতাধীন কচুপাত্রা বাজারের খাল এবং মালিপাড়া স্লুলিজ গেট সংলগ্ন খালের পূর্ব পাশ দখলের মহাউৎসব প্রশাসন নিরব ভুমিকায় রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,শারিকখালী ইউনিয়নের কচুপাত্রা বাজারে প্রতি রবিবার হাট বসে এবং প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বে ও থেমে নেই খাল ও জলাশয় দখল।কোথাও প্রভাবশালীরা;আবার কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় সাধারণ মানুষ মুদি দোকানের মালিকরা;বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে স্থানীয়রা বসবাস করছে।মালিপাড়া স্লুলিজ গেট সংলগ্ন অবৈধ ভাবে খালের এক পাশ ৬ থেকে ৭ জন লোক দখল করে আছে।খালের দু:পাড়ে দোকান ইমারত নির্মাণ করার ফলে একদিকে যেমন খাল সংকুচিত হয়ে অন্যদিকে খালের নব্যতা কমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।এক সময় খাল দিয়ে নৌকা চলত মানুষ মালপত্র নিয়ে যাতায়াত করতো পরিত্রুমে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,মোটা অংকের টাকার বিনিময় প্রশাসন খালটিকে গিলে খাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।বৃষ্টির দিন এলে চরম দুর্ভোগে বসবাস করে সাধারন মানুষ।খালের দুই পাড় দখল করার কারণে পয়:নিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ময়লা আর্বজনা মালিপাড়া স্লুলিজ গেট সংলগ্ন খালে ফেলে।সরকারি খালের পাড়ে তাদের ব্যক্তিগত জায়গা মনে করে ছোট ছোট ঘর তুলে।খালটি দখল করায় যেটুকু খাল আছে তাও ময়লা ও মলমূত্রে ভরপুর।এই ময়লা পানি দিয়ে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে হয়।
এ বিষয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক হাসান ঝন্টু বলেন,সরকারি খাল বা নদীর পাশে কোনো অবৈধ স্থাপনা করার সুযোগ নেই।অবৈধ স্থাপনা যদি কেউ দখল করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের উচিৎ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখল মুক্ত করা।

উপজেলা ভুমি অফিসে অবৈধ স্থাপনার বিষয় এই প্রতিবেদক জানতে গেলে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায় নি। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েক কৃষকরা বলেন, কচুপাত্রা-দোন খাল এবং মালিপাড়া খালের পাড়ে যে হাড়ে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠতেছে এক সময় রাস্তার দুই পাশের খাল দুটি ভরাট হয়ে যেতে পারে।আমরা কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবো।বন্ধ হয়ে যাবে আমাদের ফসল উৎপাদন।আমরা ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করি যার কারনে একসময় জলাবদ্ধতা সৃস্টি হয়ে যাবে গোটা এলাকা। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনা হলেও এখনও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরগুনা জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মুশফিক আরিফ বলেন,অবৈধ স্থাপনা ব্যক্তিগত ভাবে কেউ দখলে নিতে পারবে না।খাল কিংবা জলাশয়ের জমি কেউ দখল করে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।অবৈধ জমি দখলের কারনে এক সময় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.কাওসার হোসেন মুঠোফোনে জানান,অবৈধ স্থাপনার লিস্ট তৈরি করে ডিসি অফিসে জানানো হয়েছে এবং ডিসি অফিস থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিবে