Main Menu

হাসপাতালে ডাক্তার অনুপস্থিতি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

হলিবিডি ডেস্কঃ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক কেন অনুপস্থিত, এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে ক্ষোভ ঝেরেছেন একজন সংসদ সদস্য। প্রশ্ন তুলেছেন, যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা কোথায় গেলেন। চিকিৎসকদের দলীয় সংগঠন করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে সংসদে।

বরিবার আগামী অর্থবছরের জন্য পরিচালক ও উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহের জন্য মঞ্জুরি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় এসব প্রশ্ন তোলা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন রাষ্ট্রপতিকে মোট ১৯ হাজার ৯৪৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখেন।

আর এই প্রস্তাবের ওপর ছাটাই প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, রওশন আরা মান্নান, বিএনপির হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা, প্রমুখ।

এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য হারুন প্রশ্ন রাখেন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমার সদর হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ৫৮ জন। আছেন সাত থেকে আট জন। বাকিরা কোথায় গেলেন? উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক থাকার কথা ১৪-১৫ জন। আছেন দুই-তিন জন।’

হারুন বলেন, ‘গত ১০ বছরে যে ডাক্তার নিয়োগ হয়েছে, তারা গেলেন কোথায়?’।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে নানা সময় ক্ষোভ এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এমনকি হাসপাতালে না গেলে চাকরি থাকবে না- এমন কথাও একাধিকবার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির সমস্যা সমাধান হয়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অভিযানে দেখা গেছে, দেশের ৬০ শতাংশ চিকিৎসক সরকারি কর্মস্থলে যান না। ঢাকার বাইরে এই সংখ্যাটি ৮০ শতাংশের মতো। এ নিয়ে মাস কয়েক আগে তোলপার হলে হাসপাতালগুলোতে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে উপস্থিতি নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু সেটাও আর হয়নি।

হারুনুর রশিদ প্রশ্ন রাখেন চিকিৎসকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও। তিনি বলেন, সরকার সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠনের কারণে তাদের প্রভাব তৈরি হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

রুমিন ফারহানা পরে স্বাস্থ্য খাতে ‘অপ্রতুল’ বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন রাখেন। বলেন, বাংলাদেশে রোগী এবং চিকিৎসক ও নার্সের অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম। এ কারণে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আর সরকার কিছু ব্যক্তিকে লাভবান করছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকজনের বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন উল্লেখ করে বিএনপি নেত্রী বলেন, এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই সরকারের।

বিএনপির কাজী ফিরোজ রশীদ অবশ্য এর জবাব দিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে এক জটিল রোগীর অপারেশনের ভিডিও দেখিয়ে বলেন, ‘এখানে ভালো চিকিৎসা হয় না, এটা সত্য নয়।’

একই দলের মুজিবুল হক চুন্নু চিকিৎসকদের দলীয় সংগঠন করার পেছনে বিএনপিকে দায় দেন। বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাব করে এই সমস্যা তৈরি করেছিলেন। এখন তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগপন্থীদের সংগঠন স্বাচিপ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন পরে এসব বক্তব্যের জবাব দেন। বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে রোগী যায় না, এই তথ্যটা ঠিক না। মাননীয় সংসদ সদস্যরাই বলছেন, হাসপাতালগুলোতে শয্যা পাওয়া যায় না। রোগী না গেলে এটা হয় কী করে? তার মানে মানুষ সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আশেপাশের অন্যান্য দেশের তুলনায় খারাপ না- এমন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল হলে গড় আয়ু কীভাবে ৭৮ হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গড় আয়ু ৭৮ উল্লেখ করে স্বপন বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে থাকলে আমরা এর সম পর্যায়ে চলে যাব।’






Related News

Comments are Closed