সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র-কবি আবু সুফিয়ান খান

প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১৬:৪৬,অপরাহ্ন ০৬ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ৩২৮ বার পঠিত

সাহিত্য জগতে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা নিজে সমাজ ও সাহিত্য জগতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশা-পাশি অন্যকেও  প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবসময় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যের উপকার করতে চান।

সেরকমের একজন সাহিত্যপ্রেমী, নিষ্ঠাবান সাহিত্য সাধক, সংগঠক, সমমাজসেবী, শিক্ষাঅনুরাগী,  রাজনীতিবিদ, ধর্মপ্রাণ, প্রকৃতি প্রেমী, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, নিবিষ্ট ছড়াকার, কবি ও কবিতাপ্রেমী, সমালোচক, নিরাসক্ত জীবনযাপনের মানুষ এবং সর্বোপরি সফল ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আবু সুফিয়ান খান। আজ তার কর্মময় সফল জীবনের অবদান সম্পর্কে সকলের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস করলাম।

★সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রঃ

বর্তমান সময়ে বাংলার সাহিত্য জগতে সাড়া জাগানো যে সকল কবি, সাহিত্যিক রয়েছেন তন্মধ্যে কবি, সমালোচক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান খান অন্যতম। সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সকল কবি সাহিত্যিকদের মনে স্থান করে নিয়েছেন তার নিরলস অসাধারণ প্রচেষ্টা ও সাহিত্য সাধনার মধ্য দিয়ে।

★খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বঃ

তিনি শুধু লেখালেখি নয়, লেখালেখির পাশা-পাশি ব্যবসা ও সমাজ সেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদানের মাধ্যমে সমাজে সফল, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সমাজকর্মী হিসেবে গৌরব অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়েও একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেছেন।

★কোমল হৃদয়ের অধিকারীঃ

এ সব কিছুর বাইরেও যে আবু সুফিয়ান খান  আমাদের চোখে পড়ে তাকে দেখে অবাক হতে হয়। এতো সব গুণের অধিকারী,  এতো উঁচু ও বড় মাপের একজন মানুষ হওয়া সত্বেও তার মনে কোন অহংকার নেই। নেই কোন অহমগরিমা, কার্পণ্যতা।

তিনি এমন একজন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী, সহজ সরল সাদা মনের মানুষ, যার সান্নিধ্য না পেলে কখনো বুঝা যেতো না। তিনি অতি সহজেই মানুষের মনকে জয় করে নিতে পারেন তার স্নেহ মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে। যে কোন মানুষকেই তিনি অতি সহজে আপন করে নিতে পারেন তার সহজ সরল কোমল হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে।

বিশেষ করে তিনি তরুণ ও নবীন-প্রবীণ কবিদের কবিতা জগতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দানের মাধ্যমে সুস্থ সাহিত্য ও সংস্কৃতির বাঁক বদলের ধারাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিজের উদ্যোগেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং প্রেরণা দানের মাধ্যমে সমস্ত ভূমিকা পালন করেন সেটা অকল্পনীয়,  অবিস্মরণীয়। আর সে জন্যই তিনি অতি সহজেই সকল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং মনে প্রগাঢ় শ্রদ্ধাবোধ জাগিয়ে তোলেন।

★কৃতিত্ব -বীর মুক্তিযোদ্ধাঃ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নিজের জীবনকে বাজি রেখে বাংলার মানুষের মহা মুক্তির জন্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খ্যাতি অর্জন করেন। আমরা আজ তার মতো সকল মুক্তিযোদ্ধাকে জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

★পারিবারিক জীবনঃ

মহান এই ব্যক্তি বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি আবু সুফিয়ান খান ১৯৫৩ সালে ফরিদপুর জেলায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তার পিতার নাম মোঃ শরাফত আলী খান ও মাতার নাম মোছাঃ নুর জাহান বেগম। তার স্ত্রীর নাম রোকেয়া সুলতানা।

কবি আবু সুফিয়ান খান বিবাহিত জীবনে একজন অত্যন্ত সুখী সমৃদ্ধশালী মানুষ। তিনি একজন সফল ও আদর্শবান বাবা হিসেবেও সুপরিচিত। তার দুই কন্যা সন্তান :

সোফিয়াখান তুলতুল ও মুনমুন খানকে নিজ আদর্শে প্রতিষ্ঠিত করে গড়ে তুলেছেন। দুই জনই ঢাকা ভার্সিটি থেকে এম, এসসি পাশ করে চাকরি করছে।

তার বড় মেয়ে বড় মেয়ে ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকনোমিকস, লালমাটিয়া, ঢাকা এর সাবেক লেকচারার। বতর্মানে বিবাহোত্তর কালীন অবস্থার কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বড় মেয়ের স্বামী গ্রামীণ ফোনের কো-অর্ডিনেটর। এবং ছোট মেয়ে ব্রাকের উপজেলা ম্যানেজার।

এছাড়া “মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র” এর আবৃত্তি শিল্পী, বিটিভি ‘র উপস্থাপক, এবং বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত নাট্য শিল্পী, অধিকিন্তু জাতীয় দিবসগুলোতে জাতীয় প্রোগ্রামের উপস্থাপক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ছোটা মেয়ের স্বামী লংকা-বাংলা ফাইন্যান্সরের গ্রুপ ম্যানেজার।

★পেশাগত জীবনঃ

পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়, বর্তমানে লেখালেখি সাহিত্য চর্চা, সাহিত্য সাধনা করেন। তিনি কবি, সমালোচক এবং একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।

★সমাজকর্ম ও সামাজিক সংগঠনঃ

সামাজিক পরিচিতিও তার কম নয়। তিনি সমাজের সর্ব মহলেই একজন আদর্শবান সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

সামাজিক জীবনে তিনি কমলাপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়, কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কমলাপুর শেখ শাহাবুদ্দীন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাজার ও মাদ্রাসা এবং কমলাপুর পূবালী ক্লাব প্রতিষ্ঠিত করণের সক্রিয় উদ্যোক্তা।

★সাহিত্য কর্ম ও সাহিত্য সংগঠকঃ

সাহিত্য সংগঠক হিসেবে তিনি ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাবেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি পাক-ভারত বিখ্যাত সনেট কবি সূফী মোতাহার হোসেন (আদমজি সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত) এর নামে “সূফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পরিষদ” এর সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা, অগ্নিবীণা সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদ্স্য, ঢাকা এবং ছড়া সংসদের উপদেষ্ঠা হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

★খ্যাতিমান লেখক ও কাব্য সমালোচকঃ

তিনি একজন খ্যাতিমান লেখক হিসেবে বাংলা সাহিত্য জগতে অত্যন্ত সুপরিচিত এবং উত্তরাধুনিক কবি হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। সাহিত্য জগতে সকল কবি সাহিত্যিক, গবেষক এর দৃষ্টিতে কাব্য সমালোচক হিসেবে তিনি অত্যন্ত স্বনামধন্য প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব।

তিনি গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন লেখকের কাব্যগ্রন্থ, গল্পগ্রন্থ, ছড়াগ্রন্থ ও গবেষণামূলক গ্রন্থের ত্রুটিগুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে দেখিয়ে দেন, জানিয়ে দেনন ও বুঝিয়ে দেন, এবং আন্তরিকভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে কীভাবে ত্রুটিমুক্ত গ্রন্থ রচনা করা যায়।

এপর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০ টির অধিক বিভিন্ন ধরেন গ্রন্থের রিভিয়্যূ করেছেন তার একান্তই নিজের ইচ্ছায়। এ সব রিভিয়্যূ গ্রন্থ রচয়িতার মনে যেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ঠিক তেমনিভাবে পাঠক মহলেও সমাদৃত হয়েছে।

★প্রকাশিত গ্রন্থঃ

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে

১) কাব্যগ্রন্থ “হৃদ্য”-১৯৮০,

২) “কবিতায় স্বদেশ

দেখি” (যৌথ),

৩) আশির দশকের

কবিতা”(যৌথ),

৪) “লুট” (কাব্যগ্রন্থ) ১৯৯২।

★সফল রাজনীতিবিদঃ

তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ হিসেবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী রাজনীতিতে ১৯৬৫ হতে অদ্যাবধি আছেন।

তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন এবং ফরিপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংসদ সদস্য (সাবেক) ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ, ঢাকা।

★যা কিছু প্রিয়ঃ

মহান এই কীর্তিমান কবি আবু সুফিয়ান এর প্রিয় শখ হলো ভ্রমণ। প্রিয় খাবার হলো ডাল-ভাত এবং তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

★পরিশেষে: বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি আবু সুফিয়ান খান আজীবনই একজন ধর্মপ্রাণ, উদার মনের মানবতাবাদী, পরোপকারী, চমৎকার বন্ধুসুলভ, সহমর্মিতার ধারক-বাহক মানুষ।

তিনি তার জীবনের মূল্যবান সময় সাহিত্য সাধনা, সমাজ সেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মানব কল্যাণে ব্যয় করে আসছেন। আমরা তার কাছে চির ঋণী ও কৃতজ্ঞ।

কবি আবু সুফিয়ান খান এবং তার পরিবারের সকলের সুখ শান্তি সমৃদ্ধি ও সুস্থতার সহিত দীর্ঘায়ু কামনা করি মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে।

 

লেখক –

মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ

কলুমপুর, বালাগঞ্জ,সিলেট।

কেন্দ্রীয় মেধা সমন্বক ও সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক, গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ।

 

About editor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com