Main Menu

শয়তান ভয়ে গ্রাম ছাঁড়ছে মানুষ

বহির্বিশ্ব ডেস্ক : ভারতের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর জেরে দেশটির উত্তর প্রদেশের সন্দেশখালিতে ভয়াবহ হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানমালের ভয়ে পালাচ্ছেন অন্যত্র।

আনন্দ বাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হামলা ভাঙচুরের ভয়াবহ চিত্র। বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে ভেড়ির পাড় ধরে সপরিবার মালঞ্চে বাপের বাড়ি রওনা হয়েছেন ছলনা মণ্ডল। মাছ চাষি স্বামী রজনীর দু’চোখে আতঙ্ক।

ভাঙ্গিপাড়া-কাণ্ডে আরো অনেক পরিবার আতঙ্কে শনিবার রাত থেকে গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন। এমন ঘটনা এ গ্রামে আগে কখনও দেখিনি বলছিলেন রজনী।

তিনি বলেন, আর দাঁড় করাবেন না। দিন থাকতে থাকতে এলাকা ছাড়তে চাইছি। অন্ধকারকেও ভয় করছে। সকাল থেকে গোটা গ্রামের ছবিটা ভিন্ন। এক দিকে ভয়, আতঙ্ক আর গুজব।

দূরে হাইওয়ের ধারে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে মৃতদেহের স্তূপ। গ্রামের মোড়ে পুলিশ, টিভি চ্যানেলের ওবি ভ্যান আর গাড়ির মেলা। খবরের খুঁজে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিকরা।

তৃণমূল-বিজেপি, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গ্রামের মানুষ যে বর্ণনা দিচ্ছেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যে ভাবে এক রাতের জমা রক্তের ছাপ দেখাচ্ছেন মেঠো পথে, তা যেন শুধু সিনেমায় হয়। দিনদুপুরে সন্দেশখালিতে যা হয়েছে তা বিশ্বাস করতে পারেননি অনেকে।

বন্দুক উঁচিয়ে গ্রামে যখন ঘটনা ঘটছে, ভেড়ির ধারে মাচায় বসা বৃদ্ধা কুচোরানি মণ্ডল তখন বন্দুকবাজদের আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন।

বৃদ্ধা কুচোরানির হাতে ব্যান্ডেজ, মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ চুঁইয়ে জমাট রক্ত টিপের মতো হয়ে আছে। ক্লান্ত গলায় বললেন, পালানোর বয়স থাকলে চলি যেতাম বাবা। আমাদের গেরামে শয়তান ঢুকে পড়েছে।






Related News

Comments are Closed