Main Menu

শেখ হাসিনা কি তিস্তার দাবী ছেড়ে দিলেন?

হলিবিডি ডেস্কঃ গণভবনে আয়োজিত আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করতে বারণ করেছেন।’ তিনি বলেছেন, ‘সরকার ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।’

ইতিহাস স্বাক্ষী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনই ভারতের কাছে তিস্তার পানি জোরেশোরে চাননি। ২০১১ সালে যখন পানিবণ্টন চুক্তি ভেস্তে গেল। তখন থেকেই যদি তিনি তিস্তার পানির জন্য ভারত সরকারকে ক্রমাগত চাপ দিতেন। তাহলে ২০১৪ সালে ভারত কোনভাবেই একতরফা পানি প্রত্যাহার করতে পারতো না। তিস্তার পানি প্রত্যাহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উদাসীনতাই দায়ী। ২০১১ সালে যখন পানিবণ্টন চুক্তির প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছিল তখন ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার করার কারণে বাংলাদেশ কতখানি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা ভারতের কাছে তুলে ধরা হয়নি।

১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশনটি ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট থেকে আইনে পরিণত হয়েছে। সেখানে উজানের দেশ থেকে ভাটির দেশে প্রবাহিত নদীর পানি কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তার দিকনির্দেশনা আছে। অথচ আজ অবধি আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক আইনের এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে জোড়ালো কোন দাবী জানাতে সম্পুর্ন ব্যর্থ বলে প্রমানিত হয়েছেন।

২০১৪ সাল থেকে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করছে। অথচ তিস্তা ইস্যুতে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে! খুবই আশ্চর্যজনকভাবে, আমাদের জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের আইনে ভারতের সঙ্গে আলাপ করার কোন ক্ষমতাই দেয়া হয়নি! আর যৌথ নদী কমিশন বছরে চারবার করে সভা করার কথা থাকলেও একবারও বসেনি!

অথচ এদিকে ভারত কিন্তু বসে নেই। তারা একের পর এক নানান অযুহাত দেখিয়ে টালবাহানা করছে। ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে আমাদের রাজনীতিবিদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। তিস্তার পানি না দেওয়ার জন্য ভারত নতুন এক কৌশলও উদ্ভাবন করেছে। তাহলো, তিস্তার পরিবর্তে তোরসা জলঢাকা নদীর পানির কথা বলছে ভারত। অথচ এ নদীতে এমন পানি নাই, যা দিয়ে তিস্তার ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

এবার নরেন্দ্র মোদি একচ্ছত্র ক্ষমতাসীন হবার পর আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তিস্তার পানি না পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে ভারতের মত আজ একই সূরে নতুন এক কৌশলের কথা উদ্ভাবন করেলেন! যার নাম ডেল্টা প্ল্যান। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নাকি ‘কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তার মানে, শেখ হাসিনা কি তিস্তার দাবী ছেড়েই দিলেন?






Related News

Comments are Closed