Main Menu

শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন ও কিছু কথা, এমরান আহমেদ

এমরান আহমেদ :::::::১৮ অক্টোবর  শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মদিন। শেখ রাসেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার কনিষ্ঠ পুত্র। এরা সবাই প্রয়াত। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভিশপ্ত প্রতু্যষে একদল ঘাতকের বুলেটে এরা নিহত হন। স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তি তথা দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের যৌথ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এমন কলঙ্কজনক ঘটনার জন্ম হয়।

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও ওই ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।১৫ আগস্টের ঘটনা সম্পর্কে সবাই জানেন। একটি রাজনৈতিক পরিবার, যে পরিবারটি গোটা বাঙালি জাতির আশা ভরসার কেন্দ্রস্থল ছিল। সেই পরিবারের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল তার বর্ণনায় গা শিহরিয়ে ওঠে। সেদিন মাত্র ১১ বছরের শিশু ছিল শেখ রাসেল। ফুটফুটে সুন্দর কোমলমতি উদ্ভাসিত একটি শিশুর জীবন কীভাবে শেষ করা হয়েছিল তা ভাবতে গেলে এখনো চোখের জল বাঁধ মানে না। সেই রাসেলের জন্মদিন নিয়ে লিখতে গিয়ে নানা প্রশ্নের অবতারণা হয় মনের মাঝে। জন্ম-মৃতু্য প্রকৃতির নিয়ম। এ নিয়মকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মৃতু্যর নির্মমতায়, বিশ্ব বিবেককে কাঁদায়। শিশু রাসেল কোনো রাজনীতিক ছিল না। ওই বয়সে সে খেলনা নিয়ে খেলতো। তার দিনলিপি ছিল অন্য সাধারণ শিশুদের মতোই। তার পিতা রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশের অধিকর্তা এমন ভাবনাও তার মধ্যে ছিল না। তা স্বাভাবিক কারণেই। ভবিষ্যতে সে কী হতে পারতো, কিংবা কী হতো পারতো না- তা আলোচনার দাবি রাখে না। তবে বাংলার সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভাবনার মধ্যে এ বিষয়টি স্থান পাওনা নিশ্চয়ই অমূলক নয় যে, রাসেলও বেঁচে থাকলে সুযোগ্য রাষ্ট্রনায়কই হতো। কেননা, তার শরীরে ছিল শৌর্য বীর্যের সাহসী রক্ত। আমি সামনা সামনি তাকে দেখিনি কখনো। কিন্তু একজন মহানায়কের পুত্র হিসেবে পর্দায় ভেসা উঠার চেহার কথা আজও জ্বলজ্বল করে। এ এক অভাবনীয় দৃশ্য। বঙ্গবন্ধু তার শিশুপুত্রকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন। ওই বয়সেও তাকে নির্ভীক একজন দেশ প্রেমিক সৈনিকের মতোই মনে হতো। চাহুনী কথা বলার ঢং ও অন্যান্য শিশুসুলভ আচরণের মাঝেও একটা ব্যক্তিত্বের ছাপ ফুটে উঠতো। কথায় আছে, বৈশিষ্ট্যমন্ডিত চেহারা নির্দেশ করে বড় হয়ে সে কী হবে। আমাদের অনুভূতির গভীরতায় শেখ যাক, এসব কথা- শেখ রাসেলের জন্মদিনে একথা বলার অর্থ হচ্ছে- ওই ব্যক্তিটি এখন শেখ পরিবারের ভক্ত হিসেবেই ঔদ্ধ্যত্ব প্রকাশ করছে। কার্যত, এটা তার অভিনয়। যে অভিনয়টা ঢাকার ক্যাসিনো গংরা করে আসছে। এতে শেখ রাসেলের আত্মা কষ্ট পাচ্ছে কিনা? জানি না। কষ্টতো পাবারই কথা। একটি নিষ্পাপ শিশুকে যে প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে তার বিচার সম্পন্ন হলেও শোকের ভার কমেনি এতটুকুও।

জীবের শ্রেষ্ঠত্ব মানব জন্ম। মানব জীবনের মানুষ নিজেকে ক্ষুদ্র চাওয়া পাওয়ার মধ্যে সম্পৃক্ত রেখে হয়েছে মোহগ্রস্ত। এই মোহগ্রস্ত থেকেই জিজ্ঞাসার উৎপত্তি। যারা জিজ্ঞাসা চরিতার্থ করতে রাসেলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেছে তাদের জীবনে দুঃখ, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ইনশাআল্লাহ হবে । জীবন ধারণের জন্য সাহায্য ও ব্যবহার্য দ্রব্যাদির প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু এগুলোকে জীবন সর্বস্ব করা চলে না। যারা এগুলোকে জীবন সর্বস্ব করতে পৈশাচিক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের স্থান অবশ্যই নিকৃষ্টতম যায়গায় হবে।

শেখ রাসেল ছিল এক মানবাত্মার মূর্ত প্রতীক। সে জীবিত না থাকলেও অসংখ্য ভক্তসজনের মাঝে বেঁচে আছে। অন্তরের গভীরে রাসেলের অবস্থান সুস্পষ্ট। সে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সব উদার মানসিকতায়, সহযোগিতা এবং সব মৌলিক অনুভূতিতে রাসেল স্মরণীয় হবে বহুভাবে। সমগ্র বাঙালি জাতির মধ্যে একটি চেতনা জাগ্রত হবে রাসেলের নিষ্পাপ দৃষ্টিকে কেন্দ্র করে। জাতি হিসেবে আমরা মানবতার প্রেম সিন্ধুতে অবগাহন করে পূর্ণ করব রাসেলের প্রত্যাশা। যে প্রত্যাশার বাণী অলৌলিকভাবেই পৌঁছে যাবে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে।

লেখক সাংবাদিক এমরান আহমেদ






Related News

Comments are Closed