Main Menu

শিশুর মেধা বিকাশে খেলাধুলার ভুমিকা, কামিল আহমদ।

কামিল আহমদঃ-:বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদবাক্য আছে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। সুস্থ দেহ ও সতেজ মন ধরে রাখতে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। শারীরিক সুস্থতা ও মনের প্রফুল্লতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ কাজেকর্মে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কেন খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম করব যান্ত্রিক জীবনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আমরা খেলাধুলা করি না, শারীরিক পরিশ্রমজনিত কোন কাজ করি না। কিন্তু আমাদের জন্য এটা জানা অত্যন্ত জরুরি যে জীবনের অসংখ্য ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্ব বয়ে আনতে পারে।

আজকাল স্কুলের অতিরিক্ত পড়াশোনার কারণে শিশুরা খুব একটা খেলাধুলার সুযোগ পায় না; সকালে স্কুল, ক্লাস থেকে ঘরে ফিরে বাড়ির কাজ, তড়িঘড়ি করে কোচিং বা প্রাইভেট শিক্ষকদের কাছে পড়তে বসা। এভাবে সারাক্ষণ পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে খেলাধুলার সুযোগ হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া অনেক অভিভাবকও শিশুদের খেলার সময় দিতে চান না, লেখাপড়ার জন্য সব সময় তাড়া দিতে থাকেন। এতে শিশুরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারা হতাশ, বিষণ্ন ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যায়। খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করতে না পারা শিশুরা পরবর্তীকালে নানা সমস্যায় ভোগে। মাঠে খেলাধুলার সময় শিশুদের শরীরে রক্তপ্রবাহ অনেক বেড়ে যায়, যা শিশুদের দেহ-মন গঠন ও সুস্থ জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, পরাজয় মেনে নিতে শেখে। ঘরের বাইরে খেলাধুলা ছাড়া এগুলো সম্ভব নয়।

শিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ খুবই প্রয়োজন। শহর এলাকায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা বিনোদনের জন্য বেছে নিচ্ছে মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার ইত্যাদি ইলেকট্রনিক ডিভাইস। খুব অল্প বয়সেই তারা আসক্ত হয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের ভার্চুয়াল খেলার প্রতি, ব্যস্ত থাকছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে। ফলে পরিবারের সঙ্গে তাদের মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, অভাব থেকে যাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধের। এ ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পর্দায় চোখ রাখার ফলে সেগুলো থেকে নির্গত রশ্মি দ্বারা মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে শিশুর চোখ ও মস্তিষ্ক, বেড়ে যাচ্ছে শিশুর ডায়াবেটিসের মতো ভয়ানক রোগের ঝুঁকি।

বড়রা অনেকেই মনে করে, খেলা মানে সময়ের অপচয়। তাদের অনেকেরই ধারণা এমন যে যে শিশুর লেখাপড়া বা কোনো কাজের বয়স হয়নি একমাত্র তাকেই অবাধে খেলতে দেওয়া যেতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বড়ই একপেশে। খেলার জন্য শিশুকে সময় দিতে হবে। ‘

All work, no play makes jack a dull boy.’ অর্থাৎ শুধু কাজ আর কাজ, কোনো খেলা নয়, মানুষকে নির্বোধ বানিয়ে দেয়। তাই শিশুকে খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের মতো স্থানে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলা খাবারের মতোই একটি অপরিহার্য ব্যাপার।

::::::সম্পাদনায় এমরান আহমেদ






Related News

Comments are Closed