Main Menu

ম্যাচ বাই ম্যাচ থেকে প্রাপ্ত ক্রিকেটীয় শিক্ষা কবে কাজে লাগবে

হাফিজুল ইসলাম লস্কর,
.
শেষ দুটি টি২০ ম্যাচের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষনা করা হয়েছে। দল থেকে বাদ পড়েছেন বাদ সৌম্য সরকার, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, আবু হায়দার রনি ও মেহেদী হাসান। অফ ফর্মের কারনে সৌম্য সরকার বাদ পড়লেও বাকি তিনজন দল থেকে বাদ পড়েছেন না খেলেই। আবার যারা দলে ঢুকেছেন তারা যে খেলবেন তারই বা নিশ্চয়তা কি? স্বভাবতই প্রশ্ন জাগছে নির্বাচকদের যোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। যেসব ক্রিকেটার কোন কোন ম্যাচই খেললেন না তাদের বাদ দেওয়া নির্বাচকদের অযোগ্যতার প্রমান। আর বাদ পড়া ক্রিকেটাররা যদি অযোগ্য বা টি২০ ক্রিকেটের উপযোগী না হয় তবে তাদের দলে চান্স দেওয়াতো নির্বাচকদের অযোগ্যতা। আফগানদের সাথে ম্যাচের আগের দিন হুট করে দলে সুযোগ দেওয়া হলো আবু হায়দার রনিকে। আবার ম্যাচের বাদের দিনই বাদ দেওয়া হলো তাকে। তাই রনিকে সুযোগ ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন জাগছে।

সেই সাথে ক্রিকেট অঙ্গনের নবীন ও যুদ্ধবিদ্ধস্তদেশ আফগানিস্থান মাত্র কয়েক বছরে সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়েই যে উন্নতি করেছে, তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে পর্যাপ্ত সুযোগের পরও উন্নতি না হয়ায় ক্রিকেটার ও নির্বাচকদের দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের অভিষেক হয়েছে ২০০৬ সালে সেখানে আফগান ক্রিকেটের যাত্রা শুরু ২০০৯ সালে। অতচ আফগানিস্তান এই কয়েক বছরে তিন ফরম্যাটেই ভিন্ন টিম গঠন করলেও বাংলাদেশ আজো তা পারেননি। তাকে কি নির্বাচক ও ক্রিকেট বোর্ড কর্তাদের অযোগ্যতা ছাড়া আর কি।

তাছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কথাবার্তাগুলোও একরকম খাপছাড়া ও ক্রিকেট সমর্থকদের সাথে ঠাট্রা নামান্তর বলা যায়। সেই সাথে অধিনায়কের একথাও প্রমান হয় যে, তিনি অধিনায়ক হতে চাননি তাকে জোর করে অধিনায়ক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাও নির্বাচকদের অযোগ্যতার প্রমান। তাছাড়া ক্রিকেট দলে গনগন পরিবর্তন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধবংসের নামান্তর। কোন ক্রিকেটারকে হুট করে দলে সুযোগ দিয়ে কোন ম্যাচ না খেলিয়ে বাদ দেওয়া বা এক ম্যাচ খারাপ করলেই বাদ দিয়ে দেওয়া তার প্রতি অবিচারের নামান্তর। যা তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের উপর মারাত্বক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে দলে সুযোগ পাওয়া সাব্বির রহমান আফগানদের বিরুদ্ধে ২৭ বলে ২৪ রানের ইনিংস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে অধিনায়ক সাকিবের প্রায় ৫-৭ সেকেন্ড প্রকাশ্যেই হাস্যরস অধিনায়কসুলভ আচরনের বিপরিত। যা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তামাশায় পরিনত করার একটি অপচেষ্টা। সাব্বির না হয় ভুল করলো কিন্তু তিনি অধিনায়ক হিসেবে কি করলেন। তিনিতো প্রতি ম্যাচেই উইকেট বিলিয়ে দিচ্ছেন তার বেলায় কি হবে। তাই সময় থাকতে অধিনায়ককে সংযত করুন এবং তার দায়িত্বের প্রতি সজাগ করুন। তাছাড়া ম্যাচ হেরে যাবার পর অধিনায়ক বলেন, এই ম্যাচ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহন করেছি যা পরবর্তি ম্যাচে কাজে লাগবে। কিন্তু তার বাস্তব প্রতিফলন পরবর্তি ম্যাচে খুজে পাওয়া যায়না। তাই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে আমাদের এই প্রাপ্ত শিক্ষা কবে কাজে লাগবে।

সেই সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থে যিনি অধিনাকত্বে আগ্রহী নন তাকে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে মেহেদী মিরাজ বা মোসাদ্দেক এর মতো তরুন প্রতিভাবান কাউকে টি২০ অধিনায়ক করে বাংলাদেশের টি২০ ক্রিকেট টিমকে যোগ্য ক্রিকেটার দিয়ে পুর্নগঠন করুন।

.
হাফিজুল ইসলাম লস্কর,
নির্বাহী সম্পাদক.সাপ্তাহিক ইউনানী কন্ঠ।






Related News

Comments are Closed