Main Menu

মন্ত্রিসভায় সম্প্রসারিত হচ্ছে, ফিরছেন তোফায়েল-মতিয়া-মোশাররফরা!

হলিবিডি অনলাইন ডেস্ক :: তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের এক বছর পার না হতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের ব্যাপক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর অর্থাৎ ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম মাসে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসছে। কারণ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনে দল ও সরকারকে পৃথক রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, কয়েকজন সিনিয়র সাবেক মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় সমালোচনার কারণে বিব্রত সরকার। এ জন্য কয়েকজন মন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে সসব মন্ত্রনালয়ে পুরাতন অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল কিংবা সম্প্রসারণে হাত দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। যা হওয়ার সম্মেলনের পর হবে। মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ওবায়দুল কাদের গত বুধবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতেও পারে।
ব্যর্থতার দায়ে কেউ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন কিনা- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাদ পড়া, নতুন যুক্ত হওয়া কিংবা পদোন্নতির বিষয়টি একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই জানেন।

সূত্রমতে, গত এক বছরের মূল্যায়নে মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দুর্বলতার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও সমালোচনার ঝড় বইছে। রেল মন্ত্রণালয়েও কাজের সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ ছাড়া গত এক বছরে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ কয়েকটি বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কাজে আসেনি। চালের দাম বৃদ্ধি ও এর নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে।

চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের সম্মেলন মাথায় রেখে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও রদবদলের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা থাকবেন, তাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রাখতে চাইছে সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের এক বছরে মন্ত্রণালয় পরিচালনায় নানা অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কথা বলে আসছিলেন। অনেকে বর্তমান মন্ত্রিসভাকে অনভিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রী না করায় আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলোর ভেতরেই নানা সমালোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, গত এক বছর আওয়ামী লীগ সরকার ভালো সময় পার করেনি। বিশেষ করে, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরকার সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা, পেঁয়াজের দামে রেকর্ড, শেয়ার বাজারে ধস, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা, রিফাত, নুসরাত ও বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে।

কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক বছর পূর্তি হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। মন্ত্রিসভার সদস্যদের গত বছরের পারফরম্যান্স প্রধানমন্ত্রীর কাছে আছে। যারা ইতোমধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে তাদের হয়তো কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হবে। আর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দু-একজন উপমন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী হবেন। সরকারের ভাবমূর্তি ফেরাতে সাবেক দু-একজন মন্ত্রীকে পুনরায় মন্ত্রী করার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী এবং দুজন উপমন্ত্রী থেকে প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। আর রদবদলের অংশ হিসেবে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাককে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার পেতে পারেন অন্য কোনো মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রীকেও সরিয়ে দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে। গুঞ্জন রয়েছে, জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় রদবদল করে টিপু মুনশিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সেখানে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তোফায়েলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাজার স্থিতিশীল করতে চান প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভার সিনিয়র কয়েকজন সদস্য নিয়ন্ত্রণহীন বাজারের জন্য মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেই দুষছেন। তারা বলছেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর পদক্ষেপ ও বাজার তদারকির (মনিটরিং) অভাবে সিন্ডিকেটগুলো ইচ্ছামতো দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষ সরকারের ওপর চরম বিরক্ত। মানুষ মনে করে, সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখলেও দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন দামের লাগাম টানতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায় বলেন, কেউ কেউ আমার পদত্যাগ দাবি করছেন। পদত্যাগ করলে যদি পেঁয়াজের দাম কমে যায়, এক সেকেন্ডও লাগবে না আমার মন্ত্রিত্ব ছাড়তে।

সূত্র জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ড. আবদুর রাজ্জাককে খাদ্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হতে পারে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আবদুর রাজ্জাককে খাদ্যমন্ত্রী করা হয়। এখন আবদুর রাজ্জাককে কৃষি থেকে সরিয়ে খাদ্যে নিয়ে আসা হলে কৃষিতে আগের সফল মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে ফের বসানো হতে পারে। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি বেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেখানে সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আর তাজুল ইসলাম মন্ত্রিসভায় থাকলেও কোন দপ্তর পাবেন, তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে পদোন্নতি দিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। এ ছাড়া পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে। শামীমকে প্রতিমন্ত্রী করে পানি সম্পদে রাখা হবে, না-কি অন্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে তা নিশ্চিত নয়। কারণ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক দায়িত্ব পালন করছেন। নওফেল পদোন্নতি পাওয়ার পর একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ কিংবা রদবদলের কোনো মেসেজ আমার কাছে নেই। কারও পদোন্নতি কিংবা বাদ পড়ার খবরও আমি জানি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী নিয়ে বর্তমান সরকার চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পথচলা শুরু করে।






Related News

Comments are Closed