Main Menu

বয়স্ক ভাতা বাণিজ্য : ঈদ উপলক্ষে ১২০০ টাকা

হলিবিডি ডেস্কঃ যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কতিপয় সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারের দেওয়া বয়স্ক ভাতার টাকা প্রদানের আগেই কার্ডপ্রতি ১২০০ টাকা অগ্রিম নিয়ে ব্যাংকের চেক প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, সামনে ঈদ তাই কিছু কিছু লোকের কাছ থেকে ১২০০ করে টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সরকার উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে বয়স্ক নারী-পুরুষকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা প্রদান করে। প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ব্যাংক থেকে এ টাকা ওঠানোর জন্য চেক প্রদান করে থাকেন। প্রতি তিন মাস পর পর এই চেক প্রদান করার নিয়ম থাকলেও এবার এক বছর পর চেক প্রদান করা হয়েছে। এবার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ৭৭টি নতুন বয়স্ক কার্ডপ্রাপ্ত নারী-পুরুষকে কাউকে এক বছরের কাউকে ৬ মাসের টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নির্দেশে ঘিবা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুস আলী, ধান্যখোলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাসান আলী, বোয়ালিয়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছাকের আলী ও শাখারীপোতা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিন্টু মিয়ার সহযোগিতায় ৭৭ জন কার্ডধারীর বয়স্ক ভাতার তিন হাজার টাকার চেক দেওয়ার আগে প্রত্যেকের কাছ থেকে নগদ ১২০০ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন।

কয়েকজন বয়স্ক ভুক্তভোগী জানান, তাদের কাছে বয়স্ক ভাতার অগ্রণী ব্যাংকের চেক দেওয়ার আগে মিজান চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাদের কাছ থেকে ১২০০ টাকা নিয়ে তারপর চেক প্রদান করেন। আরেকজন ভুক্তভোগী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমি আমার বয়স্ক ভাতার কার্ড থেকে গত এক বছরে কোনো টাকা নিইনি। সে ক্ষেত্রে আমাকে তারা ছয় হাজার টাকার চেক প্রদান করা কথা থাকলেও ব্যাংকের চেকে তিন হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগে আরো বলেন, আমার স্বামী স্ট্রোকের রোগী।

সে অসুস্থ তার নামে তিন হাজার টাকার চেক দিলেও অগ্রিম ১২০০ টাকা নিয়েছেন। ভেবেছিলাম বয়স্ক ভাতার পুরো টাকাটা দিয়ে আমার অসুস্থ স্বামীকে যতটুকু পারি চিকিৎসা করাব। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি না তাদের দিয়ে অবশিষ্ট এই ১৮০০ টাকায় কতটুকু চিকিৎসা করাতে পারব।
আরো জানা যায়, বয়স্ক ভাতার বিপরীতে যে টাকা নেওয়া হয় সে টাকার একটি অংশও ইউপি সচিব মিলনের পকেটে যায়। বাকিটা চেয়ারম্যান মিজানুর ও তার চার ঘনিষ্ঠ ইউপি সদস্যদের পকেটে।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব মিলনের সাথে কথা বললে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, এর আগে দুই থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হতো। এখন তো আগের চেয়ে অনেক কম নেওয়া হচ্ছে। আপনারা যে এই টাকা নিচ্ছেন তার কী কোনো নিয়ম বা বৈধতা আছে প্রশ্ল করা হলে সে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, না এটা নেওয়ার কোনো বৈধ্যতা নেই। তবে সামনে ঈদ তাই কিছু কিছু লোকের কাছ থেকে ১২০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে যারা এখন ছয় হাজারের চেকের বিপরীতে ৩০০০ টাকার চেক পেয়েছেন তাদের ঈদের পর বাকি ৩০০০ টাকার চেক প্রদান করা হবে।

শার্শা উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ওহাব আলী এ বিষয়ে বলেন, প্রতিবছরে প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে বয়স্ক ভাতার কার্ড আসে ৬০ থেকে ৬৫টি। তিনি আরো বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড নিতে বা চেক নিতে কোনো টাকা লাগে না। কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






Related News

Comments are Closed