Main Menu

বৈশাখী আল্পনায় লিখে গেলাম তোমাদের নাম

হলিবিডি ডেস্কঃ
নতুন বছরের প্রথম দিনে সামনে তাকানোর বিকল্প নেই, কিন্তু সামনে তাকানো অর্থপূর্ণ হয় যদি নজরুলের মতো, ‘মিথ্যার সকল সন্ধি, গ্রন্থি বিদীর্ণ করতে পারি। তা না হলে এই অক্ষমতার জন্য সমাজ এবং রাষ্ট্রকে দোষারোপ করার আগে আমাদের প্রত্যেকের নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। মিথ্যার সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজন সত্যের। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি সত্যকে অকাতরে গ্রহণ করেছি? পরিবারগুলো কি সত্যকে সবার ওপর স্থান দেয়? নজরুল যে বলেন, মিথ্যা-অন্যায়ের সঙ্গে রফা হতে পারে না, তা কি আমরা বিশ্বাস করি এবং সে লক্ষ্যে সক্রিয় হই? হ্যাঁ হই তবে সেটা কতটুকু হই নিজের মনকে প্রশ্ন করলেই তার উত্তর পাওয়া যাবে। বৈশাখ বৈশাখের অনুষ্ঠান বৈশাখের নিত্য কর্মাদি তাকে শুধুইকি নিছক বলে উড়িয়ে দিব? বৈশাখ হতে পারে নাকি একটি স্বপ্ন দেখার দিন নিজেকে নতুন করে প্রস্তুত করার দিন হ্যাঁ যদি হতে পারে তাহলে বৈশাখ নিয়ে কেন এত তর্জন গর্জন আসুন না। আমরা প্রতিজ্ঞা করি আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই আমরা পরিবর্তন হই নতুন করে সুন্দরের স্বপ্ন দেখি যদি তাই দেখতে পারি তাহলে বৈশাখের অনুষ্ঠানাদি করতে অন্যায় কোথায়। আমি না বলে পারছিনা, আমি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি সেই প্রতিষ্ঠানের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করি আমাকে সরকার আমার চাকরির সকল প্রকার সুবিধা দিয়ে থাকে আমরা কি কখনো সেখানে কেউ প্রশ্ন তুলে থাকি আমার নিত্যকর্ম টি আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব টি কতটুকু সুচারুরূপে সম্পন্ন করলাম? আমি সরকারকে কতটুকু সন্তুষ্ট করলাম? দেশকে কতটুকু সেবা দিলাম? বেশ যদি করে থাকি তো ভালো। আমি একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি যেটি বাংলাদেশে দুই দুইবার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে মংলা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টিতে বছরের সকল জাতীয় দিবস গুলি অত্যন্ত জাঁকজমকের সহিত পালন করা হয়। আমি যেহেতু বাংলার শিক্ষক আমার প্রিয় শিক্ষার্থীরা বিগত ছয় মাস আগে থেকেই বলে আসছিল স্যার আমরা একটি পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান করব, তাদের কথাটি আমার মাথায় ছিল। আমার চিন্তায় ছিল তাই পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ এর প্রাক্কালে শিক্ষার্থীদের কথা রাখতে গিয়ে কিভাবে কি করা যায় এ বিষয়ে আমি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সহিত আমলে নিলেন। আমারা মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন এর সাথে পরামর্শ করি তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। স্কুলে পহেলা বৈশাখ পালন করা যাবে সে মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করি কিন্তু বাদ সাধলো কিছু কিছু শিক্ষক তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন তাদের বিরোধিতার কারণে অন্যান্য সকল শিক্ষকরা পিছিয়ে গেলেন। ততক্ষণে আমি হতাশ হয়ে পড়ি কি করে শিক্ষার্থীদের কথা রাখবো। তবু আমি আমার প্রধান শিক্ষক মহাশয় কে সাথে নিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য উঠে পড়ে লেগে গেলাম। আর অন্যরা এই দিনটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাতে করে উদযাপন করতে না পারি তার জন্য সকল প্রকার বিরোধিতা করতে শুরু করলো শুধু তাই নয় মসজিদে মসজিদে বলে দেয়া হলো আমরা যেন সেখানে পহেলা বৈশাখ পালন করতে না পারি। আমি এক প্রকার হতাশ হই শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে পয়লা বৈশাখের জন্য বাজার করতে শুরু করলাম। আমি দেখলাম বিশাল নদীর পানি কে বাদ দিয়ে আটকে রাখা যায়, বিশাল স্রোতকে বন্দী করা যায়, কিন্তু মানুষের মনকে, হৃদয়ের আবেগ কে যে বন্দি করা যায় না তার প্রমাণ আমাদের এই উদ্যোগ। শিক্ষার্থীরা পিতা মাতার কথা কে উপেক্ষা করে কেউ গোপনে প্রকাশ্যে জানানো শুরু করলো পহেলা বৈশাখের ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে শুরু করল। যখন সকাল আটটা টা বাজলো বিদ্যালয়ের আঙিনা কানায় কানায় ভরে গেল তখন আর কিছুই করার ছিল না ওদের। উচ্ছ্বাসের কথা বিবেচনা করে তখন আমার কিছু সহকর্মীও এসে যোগ দিলো। সত্যিকার অর্থে যাদের কথা না বললেই নয় যাদের সহযোগিতায় আমাদের এই পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ বর্ষবরণ অনুষ্ঠান টি পরিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে পারছিলাম তারা হলেন- আমার প্রধান শিক্ষক জনাব ইউনুস আলী মোল্লা, সিনিয়র শিক্ষক জনাব সমিরন চন্দ্র দাস, বদরুল আলম ,ইকবাল বাহার ,জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন, জনাব খলিলুর রহমান ও আমার প্রিয় সহকর্মী তোফায়েল আহমেদ আমরা দুই থেকে আড়াই শ শিক্ষার্থী নিয়ে এলাকায় একটি বিশাল র‍্যালী প্রদর্শন করলাম তারপর শুরু হল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পান্তা ইলিশ ভোজন আমরা যখন অনুষ্ঠান শেষ করি প্রত্যেকেই যখন বাড়ি ফিরছিলাম তখন এলাকায় এক আনন্দ উচ্ছ্বাসের রব পড়ে গেল। তাদের প্রশ্ন হলো- এতদিন কেন আমাদের ছেলেমেয়েদের কে এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়। এক্ষেত্রে মংলা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পহেলা বৈশাখ-১৪২৬ উদযাপন উপলক্ষে যে সকল শিক্ষার্থীরা আমাকে সর্বত্বভাবে সহযোগিতা করেছে তাদের মধ্যে
শিশু শ্রেণী- মাহিন, মোস্তাকিম, রাফিয়া। প্রথম শ্রেণি- আব্দুল হাকিম, মাহিম, আফরিন, হুসাইন, মাসুম, আলী আব্দুল্লাহ, সুমাইয়া, সাদিয়া, তাবাসসুম, সিয়াম। দ্বিতীয় শ্রেণি- শাওন তালুকদার, জারিন, মেহেদী হাসান, মিরাজ আলী। তৃতীয় শ্রেণি- আরিফা, রেজওয়ান, সৌম্য তামিম, রুপালি, জান্নাতি, ইমরান, মুসলিমা মিম, ফেরদৌস, চতুর্থ শ্রেণী-পারভেজ, আরমান, ইরানি। পঞ্চম শ্রেণি- মাহি, ফাতেমা , সুমাইয়া, রিফাত, রাবেয়া, মুন, আরাফাত, নুপুর, রাব্বি, ফাইজা, শুভ, করনি, চাঁদনী, প্রান্তি। ষষ্ঠ শ্রেণি- হীরা, অভি, জেবা, হিমি, সানজু,সিয়াম, আকাশ, মিতু, মরিয়ম, কল্যাণী, মাইন, শাকিব, প্রতিভা, মরিয়ম, দিশা, আখি, প্রতীক্ষা, তিথি, মেধা, সাইমন, রিয়া ,মিশু। সপ্তম শ্রেণী- তানভীর বিশাল, আরমান। অষ্টম শ্রেণী-তানভীর, তাসমিয়া , চন্দ্রিমা, নির্জন, রেহেনা, আরিফ, সাদিয়া, সুকন্যা। নবম শ্রেণী- আরিবা, অর্পি, রাবেয়া , শাহাদাত, ইব্রাহিম। দশম শ্রেণি- সানি, সজীব, উর্মি, ঝুমুর, দীপা, রীমেল, জুবায়ের, সুরাইয়া, ফাহিম, রোজিনা , শুভ্রা , শিপন , তানভীর, বিজয়া, মরিয়ম, শিমু , বন্যা, মাহফুজ, সাজিদ, সিনথিয়া, মিম, অর্ণব। বৈশাখ নিয়ে এই স্মৃতিচারণ মূলক লেখায় উৎসাহ প্রদান করেছেন বিশিষ্ট কবি, গল্পকার মাহমুদা আক্তার।






Related News

Comments are Closed