বিশ্ব ৬০টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে ।।বস্র ও পাটমন্রী।।

প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২০:০৫,অপরাহ্ন ১৮ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত

হলিবিডি ডেস্কঃ পৃথিবীর ৬০টি দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর। তিনি বলেন, পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে।
সোমবার (১৮ মার্চ) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘পাট শিল্পের উন্নয়নে এর বহুমুখীকরণ: সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
ওসামা তাসীর বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের উদ্যোক্তারা প্রায় ২৩৫ ধরনের পাট পণ্য উৎপাদন করেন এবং প্রায় ৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাট খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি পাট খাতের পুনরুত্থান এবং পাট থেকে কাগজ প্রস্তুত করতে উৎসাহিত করার জন্য ‘জুট পাল্প অ্যান্ড পেপার অ্যাক্ট’ প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পর পাটই অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। তাই এ খাতের উন্নয়নে যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন দরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের ফলে আমাদের পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদার নতুন দিগন্ত সূচনা হয়েছে। এই সুযোগকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, পাটের বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং পাট পণ্যের বহুমুখীকরণে গবেষণার কোনও বিকল্প নেই। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি স্থানীয় বাজারে পাট পণ্যের চাহিদা বাড়ানো এবং সে অনুযায়ী উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে পাট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য মতিঝিলে একটি ‘ডিসপ্লে সেন্টার’ স্থাপন করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
সেমিনারে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এ উপমহাদেশে পাটের মাধ্যমেই কৃষি পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে এবং কালের পরিক্রমায় পাট আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি বলেন, পাটপণ্য শতভাগ মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে থাকে। তিনি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পাট পণ্য সম্প্রসারণের জন্য ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে অতিদ্রুত পাট পণ্যের বহুমুখীকরণ, ‘জুট পেপার অ্যাক্ট’, বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষণ এবং পাটকল পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মত দেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই পরিচালক মো. রাশেদুল করিম মুন্না। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটের উৎপাদন প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পাটের তৈরি শপিং ব্যাগের চাহিদা প্রায় ৫০০ বিলিয়ন এবং ২০২১ সালে পাটের তৈরি ব্যাগের বাজারমূল্য হবে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

About rezwan rezwan

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com