বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিভিন্ন ‘অনিয়ম’ তুলে ধরে এটি স্থগিত করে নতুন তফসিল ঘোষণার আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে : ৫:৫৮:৩৪,অপরাহ্ন ১১ মার্চ ২০১৯ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

ঢাবি প্রতিনিধিঃঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের বিভিন্ন ‘অনিয়ম’ তুলে ধরে এটি স্থগিত করে নতুন তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন বিভাগের আট শিক্ষক। তারা বলছেন, ‘এত বছর পরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সফলভাবে না করতে পারার ব্যর্থতার দায়ভার প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষক সবার। এই ব্যর্থতা সমগ্র শিক্ষক সমাজের নৈতিকতার মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই ব্যর্থতার একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক। সেই সঙ্গে এই নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক।’

সোমবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে সাতটি হলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা কয়েকজন শিক্ষক নিজস্ব উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবামূলক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ রিটার্নিং অফিসার মৌখিকভাবে অনুমতি দেন এই বলে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এই দায়িত্ব চাইলেই পালন করতে পারবো। আমরা সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছাত্রদের হল এসএম হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, এফ রহমান হল, শহীদুল্লাহ্ হল এবং ছাত্রীদের হল রোকেয়া হল ও কুয়েত মৈত্রী হল পরিদর্শন করি।’

অনিয়মগুলো উল্লেখ করতে গিয়ে তারা বলেন, ‘ভোটারের আইডি চেক করার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদস্যরাই বেশিমাত্রায় ভূমিকা রেখেছেন এবং অনাবাসিক ছাত্রদের ভোট দিতে বাধা প্রদান ও নিরুৎসাহিত করেন তারা; ছাত্রলীগের কর্মীরা নির্বিঘ্নে চলাফেরা করলেও, অন্য প্যানেলের প্রার্থী ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে বা ভোটারের সারির আশেপাশে অবস্থান গ্রহণ করতে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন; ভোটকেন্দ্রের অবব্যহিত বাইরে কৃত্রিম জটলা করে রেখেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্লথ হয় এবং বাকিরা ভোটদানে নিরুৎসাহিত হয়; অনেক ক্ষেত্রে বুথের ভেতরে আমরা সময় গণনা করে দেখেছি ৫ থেকে ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময় ব্যয় করেছে কোনও কোনও ভোটার, যা ইচ্ছাকৃত মনে হওয়ার কারণ রয়েছে; ভোট চলাকালেই রোকেয়া হলের সামনে একটি সংগঠনের ২০-২৫ জন কর্মীকে বাইকের হর্ন বাজিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।’

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘একটি বড় অসঙ্গতি মনে হয়েছে, ব্যালট পেপারে কোনও সিরিয়াল নম্বর ছিল না। ৪৩ হাজার ভোটারের একটি নির্বাচনে ব্যালট পেপারে সিরিয়াল নম্বর না থাকাটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ এতে নির্বাচনের ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম ঘটানো অনেক সহজ হয়ে যায়। কোন হলে কোন সিরিয়াল গেল, তারও ট্র্যাক রাখার উপায় থাকার কথা নয়।’

বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন– গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা খানম ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অতনু রব্বানী।

About rezwan rezwan

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com