Main Menu

বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার : গ্রাহক হয়রানী চরমে

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : সিলেট নগরীতে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের হয়রানী ও ভোগান্তি চরমে হয়ে উঠেছে। বিদ্যুবিলও দিতে হচ্ছে দ্বিগুন তিনগুন। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরীরা ঠকাচ্ছেন গ্রাহকদের, অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকদের টাকা কড়ি। চুরি রোধ ও সিস্টেম লস কমানোসহ বিদ্যুৎ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গ্রাহক পর্যায়ে প্রি-পেইড মিটার চালু করে সরকার।

২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যমান ও নতুন মিলিয়ে ২ কোটি ২০ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পিডিবির বিতরণ এলাকাগুলোর মধ্যে সিলেট ছাড়াও চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ শহরে প্রি-পেইড মিটার চালু রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ভূতুড়ে বিল রোধ, সহজে টাকা রিচার্জ করার সুবিধা ও জামানতবিহীন সংযোগের খবর শুনে খুশি হয়েছিলেন প্রাহকরা।কিন্তু প্রি-পেইড মিটার হওয়ার পর থেকে শুধু লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি নয়, নানা প্রকার ভোগান্তিত পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রাহকরা মনে করেন বিদ্যুৎ অফিসের অসৎ কর্মচারীদের দ্বিগুণ উপার্জনের পথ সুগম করে দিয়েছে এই প্রি-পেইড মিটার পদ্ধতি।’

সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর বি-ব্লক’র বনরূপা ভবন। ভবনের নীচ থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত অন্ধকার সিঁড়ির মধ্যে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়। এ ভবনের চতুর্থ তলায় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বিউবো-২ এর অফিস। এ অফিসে রয়েছে প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ নামে পিডিবি’র এক হিরার মূর্তি। এটা সিলেটের একমাত্র বিদ্যুৎ ক্রয় কেন্দ্র বা ভেন্ডিং স্টেশন। এখানে রাখা সোনার হরিণ সময়মত হাতে না পোঁছালে ঘরের বাতি জ্বলবে না। শিলিং ফ্যানও ঘুরবে না। চলবেনা কম্পিউটার,মোবাইল-টিভি,বন্ধ হয়ে যাবে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া এমনকি পরীক্ষার প্রস্তুতিও।

সরেজমিন উপশহরের বিদ্যুৎ ক্রয় কেন্দ্রে গেলে দৃশ্যমান হয় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। চতুর্থ তলাস্থ এ অফিসে দুটি কক্ষে এসি রুম বসে ৫টি বুথে সেবা দেয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি মাসে ২৫ টাকা চার্জ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে এ অফিসে। সমান টাকায় রিচার্জ করে পরের মাস থেকে আগের মাস অপেক্ষা ১০ থেকে ২০ ইউনিট কম পান তারা।

অসাধু কর্মচারীরা স্টেশনের কম্পিউটার থেকে ইচ্ছে করে মিটার লক করে দেয়। এরপর সচল করাতে গেলে তাদের ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এছাড়া, প্রি-পেইড মিটারে বিল দিতে দিন মাটি হয় তাদের। লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বিল দিতে গিয়ে দিনের আর কোন কাজ করা হয় না গ্রাহকদের। সার্ভিস চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া, ভ্যাটসহ কত কিছুই দিতে হয়। পোস্ট পেইড থেকে প্রি-পেইড পদ্ধতিতে দ্বিগুণ বিলও দিতে হচ্ছে। প্রি-পেইড বিদ্যুৎ বিল যেন গ্রাহকদের অতিরিক্ত একটা ডিজিটাল শাস্তিরূপে আবির্ভুত হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বিউবো-২-এর অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সিলেটে ৬০ হাজারের বেশি প্রি-পেইড মিটার চালু করা হয়েছে। রিচার্জের জন্য একটি নগরীর শাহজালাল উপশহরে বিদ্যুৎ ক্রয় কেন্দ্র বা ভেন্ডিং স্টেশন এবং ৯টি ব্যাংক নির্ধারণ করা হয়েছে । নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গ্রাহক জানান, প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ চালু করে শুধু হয়রানি নয়, প্রথমবার রিচার্জ করার পর দেশের বাড়ি থেকে এসে তিনি দ্বিতীয়বার রিচার্জ করে বাসায় গিয়ে দেখেন বিদ্যুৎ নেই। অনেক চেষ্টার পর সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করলে বাসায় যে দুটি কর্মচারী পাঠানো হয়, তারা মিটার দেখে বলেন লক হয়ে গেছে। লক খুলতে তাদের ১ হাজার টাকা দেয়া লাগবে। তা’ না হলে তারা চলে যাবেন। নিরূপায় হয়ে তাদেরকে ৬শ টাকা দিয়ে ‘লক’ খুলাতে বাধ্য হন তিনি।

বিদ্যুতের প্রি-প্রেইড মিটার গ্রহক জনৈক আমিন উদ্দিন জানান। বাসার প্রি-পেইড মিটারে লোড শেষ পর্যায়ে। রিচার্জ করার জন্য সকাল ১০টায় উপশহরের ভেন্ডিং স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। লাইনে সামনে আরো শতাধিক লোক। চতুর্থ তলায় অফিস। তিনি লাইনে দ্বিতীয় তলার অন্ধকার গিঞ্জি সিঁড়িতে দাঁিড়য়ে ছিলেন। দাবদাহে ও ঘামে শরীর জবুতবু। তার ভাষায়-যে পদ্ধতিতে প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ করা হচ্ছে, তা গ্রাহকদের এক ধরনের শাস্তি। প্রি-পেইড মিটার আসার পর থেকে প্রতি মাসে আমি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এই পানিশমেন্ট পেতে হয় তার মত গ্রাহকদের।

আরেক ভোক্তভোগী জানান, জুলাই মাসে তিনি ৫শ’ টাকা রিচার্জ করে ৮৭. ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ পেয়েছিলেন। পরের মাসে সমান টাকা রিচার্জ করে তাকে ৫১. ৫ ইউনিট দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে যে মিটারে বিদ্যুৎ বিল আসতো প্রতিমাসে ৭ থেকে ৮শ’ টাকা এখন প্রি-পেইড করার পর প্রতিমাসে বিল আসে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা করে।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ উিবো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাংবাদিকদের জানান, গ্রাহক ভোগান্তি দূর করার জন্য সরকার গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর সাথে একটা চুক্তিতে গেছে। আশা করি শিগগিরই এ কার্যক্রম শুরু হবে। তখন থেকে গ্রহকরা মোবাইলের মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারবেন। তিনি বলেন, মিটার খুলে নাড়াচাড়া করার কারণে অনেক সময় লক হয়, এর জন্য একটা জরিমানা করা হয়। কিন্তু লক খুলতে গিয়ে কোন কর্মচারী টাকা চাইলে সাথে সাথে তাকে জানালে তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি জানান, বর্তমানে ভেন্ডিং স্টেশন ছাড়াও ৯টি ব্যাংকে রিচার্জ করা যায়। তবে ভেন্ডিং স্টেশনের দেয়ালে রাখা তালিকায় ৮টি ব্যাংকের নাম দেওয়া আছে। ব্যাংক গুলো হলো- স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক নয়াসড়ক, ন্যাশনাল ব্যাংক মিরাবাজার, এন.সি.সি ব্যাংক লাল দিঘীরপাড়, ইউ.সি.বি.এল ব্যাংক শিবগঞ্জ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এন্ড কমার্স ব্যাংক ইসলামপুর, এন.আর.বি.সি ব্যাংক বটেশ^র, এন.সি.সি ব্যাংক কুমার পাড়া ও ইউ.সি.বি. এল ব্যাংক উপশহর শাখা।

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ব্যাংকগুলো শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে। তাছাড়া তারা সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিলের টাকা গ্রহণ কওে থাকে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁিড়য়ে থাকার পর জানানো হয়; রিচার্জ করে গ্রাহককে দেয়ার রিসিট নেই।

এটা বলে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়া হয়। ভোক্তভোগিরা জানান, এসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রি-পেইড মিটারের বিল নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাদের সার্ভিস দেখলে মনে হয়; এ কাজ জোরপূর্বক তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে কোনো কথাও বলা যায় না। এভাবে বিদ্যুতের প্রি-পেউড বিলের গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে হয়ে ওঠে। ভোক্তভোগী গ্রাহকরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করছেন।






Related News

Comments are Closed