Main Menu

প্রশাসনের কিছু জরুরী উদ্যোগে জিরোপয়েন্ট হতে পারে হিরোদের আনন্দ-আস্তানা

বিশেষ প্রতিনিধি:: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার হাকালুকি হাওরের ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্টে অপার পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম হাওর হিসেবে এমনিতেই হাহালুকির বেশ সুনাম এবং পরিচিতি রয়েছে দেশব্যাপী। তন্মধ্যে এই সময়ে অর্থাৎ ভরা বর্ষার আষাঢ়, শ্রাবন ও ভাদ্র মাসে ঘিলাছড়া পয়েন্ট থেকে বিভিন্ন প্রকারের ছোট বড় নৌকা, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পীড বোর্ড, ছোট ছোট লঞ্চ নিয়ে হাওর ভ্রমন, হাওর মধ্যবর্তী ওয়াচ টাওয়ার থেকে বিশাল হাওরের বিস্তৃত জলরাশির নয়নাভিরাম সু-দৃশ্য অবলোকন এবং সোয়াম ফরেস্টের নান্দনিক দৃশ্য যেকোন পর্যটককে আকৃষ্ঠ করে। বিশেষত ঈদের ছুটি বা এরকম যেকোন উৎসবের ছুটিতে স্বল্প সময়ে,অল্প খরচে সমুদ্র সৈকতের স্বাদ উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটন পাগল মানুষের ঢল নামে এখানে। হাওর বিলাসে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায় ছেলে, বুড়ো, শিশু এবং নারী। কেউ পালতুলা নৌকায় কেউবা মিনি জাহাজে চড়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। কেউ সমুদ্র স্নানে ঝাপ দিচ্ছে হাওরের স্বচ্ছ মিটা জলে। ওয়াচ টাওয়ারের চূড়া থেকে লাফ দিচ্ছে দূরন্তপনা কৈশোররা। আহা কী যে আনন্দ তাদের!
এ যেন হাকালুকি হাওর তীরে একখন্ড সমুদ্র সৈকত! দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মিলনমেলা। আমাদের অপার সম্ভাবনার এই পর্যটন স্পটের কিছু অসংঙ্গগতি দূর করা জরুরী।
যেমন পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের নৌকা বা এ জাতীয় বাহনের ভিন্ন ভিন্ন এবং অতিরিক্ত ভাড়া, যার কাছ থেকে যেভাবে সম্ভব আদায় করা, কম সময়ে জোড়াতালির ভ্রমন সম্পন্ন করা, কোন টয়লেট বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকা, ইত্যাদি। প্রশাসনের উদ্যোগে এ সমস্ত অসংগতিগুলো দূর করে যথাসম্ভব পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে নিম্নল্লেখিত সুপারিশমালাগুলো বাস্থবায়নে ভ্রমন পিপাসুদের মনোরঞ্জন ও তৃপ্তি আসবে। দল বেঁধে আগমন ঘটবে অগণিত দর্শনার্থীর। জিরো পয়েন্ট হবে হিরোদের আনন্দ আস্তানা।
সুপারিশমালা-
১। সোশ্যাল মিডিয়া সহ সার্বিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
২। সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, মাইজগাঁও রোডে বিভিন্ন পয়েন্টে লোকেশন সাইনবোর্ড বসাতে হবে।
৩। রাস্তার সংস্কার করে যাতায়াত সহজ এবং স্বস্তিদ্বায়ক করতে হবে।
৪। জিরো পয়েন্টে অর্থাৎ বাজারঘাট এলাকায় বসার সিঁড়ি, রকমারি ফুল, বিভিন্ন প্রকার শৈল্পিক গাছ দ্বারা সমৃদ্ধ একটি পার্ক প্লেস গড়ে তুলতে হবে।
৫। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রকার নৌযানের সময়নুযায়ী ভাড়ার তালিকা /বোর্ড লাগাতে হবে।
৬। সিলেট ক্রীন ব্রীজ এলাকার নৌবিলাস লঞ্চের মতো একটি ভাসমান নৌরেস্তোরার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৭। যথাযথ সু-পিরিয় পানি এবং টয়লেট ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৮। নিরাপত্তা এবং শৃংঙ্খলার স্বার্থে পুলিশ বক্স স্থাপন করতে হবে।
তবে যা কিছু করা হউক না কেন সকলকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে পাশ্ববর্তী মাজারের পবিত্রতা, আদব এবং সম্মান, মর্যাদা যাতে বিঘ্নিত না হয়।
সর্বোপরি ঘাটের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধিবং হাকালুকি হাওরের সুরক্ষা করলে এ স্থানে পর্যটন শিল্পের বিপ্লব সাধিত হবে।

সম্পাদনায় এমরান আহমেদ






Related News

Comments are Closed