পাহাড়ে দুই মাসে ১৭ খুন : অপহরণ-৩০

প্রকাশিত হয়েছে : ২:৪৬:৪৫,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০১৮ | সংবাদটি ১৬১ বার পঠিত

নির্মল বড়ুয়া মিলন :: পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চুক্তি পক্ষের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস -সন্তু লারমা) পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ-প্রসিত ), ইউনাইটেড
পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ- গণতান্ত্রিক) ও সংস্কারপন্থী নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ( পিসিজেএসএস – এমএন লারমা ) গ্রুপের চতুরমুখী দ্বন্দ্ব ও কোন্দল তীব্র হয়ে উঠেছে । এই চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের দ্বন্দ্বে ২০১৮ সালের গত এপ্রিল ও মে মাসে খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৭ জন খুন হয়েছে। এছাড়াও ৩০ জনকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে।

তারপরও সরকার,গোয়েন্দা সংস্থা সমুহ এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর ভূমিকা রহস্যজনক। আবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করছে বলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের ধারনা।
পার্বত্য চুক্তি করা হয়েছে বিগত ২০ বছর আগে যে কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চুক্তি করা হয়েছিল তার মুল স্পিরিটকে পাশ কাটিয়ে
পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের নজর অন্যদিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে৷

বিতর্কিত বিষয় গুলিতে না গিয়ে বিগত ৫৮ বছরের ভিতর কি হয়েছে তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোকপত করা প্রয়োজন৷ সময় কাল হচ্ছে ১৯৬০ – ২০১৮ সাল পর্যন্ত৷ কাপ্তাই বাঁধের ফলে রাঙামাটি সবডিভিশনের ৭০% লোকজন তাদের পূর্বপুরুষের ভিটা মাটি হারায় , এদের ভিতর সাওতাল, চাকমা , মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা , ত্রিপুরা , বড়ুয়া , হিন্দু, ও মুসলমান ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর লোকজন ছিল৷

কাপ্তাই বাঁধের ফলে যে সব পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তারা কেউ বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে বিভিন্ন থানায় বসতি গড়েছে৷ সেসময়ে পাহাড়ে গণতন্ত্র যেমন ছিলনা বর্তমানও গণতন্ত্র নেই৷ বর্তমানে পাহাড়ে চলছে ষড়যন্ত্রতন্ত্র।

১৯৬০- ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত পাহাড়ে
ছিল শান্তি , পাহাড়ি -বাঙ্গালী উভয়ের ভিতর ছিলনা কোন সম্প্রদায়কতা৷ সত্য বলতে কি পাহাড়ি বা বাঙ্গালী আলাদা জনগোষ্ঠীর লোক এধরনাটা তখন মানুষের মনে ছিলনা৷ উভয় জনগোষ্ঠীর লোকজন ছিল অতি সহজ সরল এবং শান্তি প্রিয়৷ ১৯৭৮ সাল থেকে সরকার পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বহিরাগত লোকজন এনে বসতি গড়ে তোলেন সরকারী
অর্থে , তার পর থেকে শুরু হয় পার্বত্য অঞ্চলে নিত্য নতুন সমস্যা আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ৷

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হচ্ছে দেশের ভুখন্ড রক্ষার কাজে দায়িত্বে নিয়োজিত পদাতিক বাহিনী৷ পার্বত্য অঞ্চল হচ্ছে দেশের মুল ভুখন্ডের অংশ , পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী তারা তাদের নিয়ম মাফিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা গুলি অতি সুকৌশলে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার কথা বলে সরকার এবং স্বশস্ত্র সেনাবাহিনীকে অন্য পথে পরিচালনা করছে। যার মুল উদ্দেশ্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে সংখ্যালঘুদের বিতারিত করা। পার্বত্য অঞ্চলে প্রথম দিকে সেনাবাহিনীর ভুমিকা নিরপেক্ষ থাকলেও এখন আর এ বাহিনীটি নিরপেক্ষ নন বলে অভিজ্ঞমহলের ধারনা৷

১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-সন্তু লারমা)’র মধ্যে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পরই চুক্তিকে বিরোধিতা করে ইউনাইটেড পিপলস
ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ) গঠিত হয়। পার্বত্য চুক্তির পর থেকে পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য চুক্তি পক্ষের প্রায় ৪শতজনের অধিক লোকজন পার্বত্য চুক্তি বিরোধীদের হাতে প্রাণ হারায়।

কৌশলে পার্বত্য চুক্তির পক্ষের লোকজন অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে। পাহাড়ে শুরু হয় আঞ্চলিক সংগঠন চুক্তি পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এবং পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ) এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত হত্যা ও গুম।

পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চুক্তি পক্ষের পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি( পিসিজেএসএস -সন্তু লারমা) পার্বত্য চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ-প্রসিত ), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ- গণতান্ত্রিক) ও
সংস্কারপন্থী নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি( পিসিজেএসএস-এমএন লারমা )
গ্রুপের চতুরমুখী দ্বন্দ্ব ও কোন্দল তীব্র হয়ে উঠেছে । এই চারটি আঞ্চলিক সংগঠনের দ্বন্দ্বে ২০১৮ সালের গত এপ্রিল ও মে মাসে খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৭ জন খুন হয় । এছাড়াও ৩০ জনকে অপহরণের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগও রয়েছে।

About loskor @loskor

Leave a Reply

Your email address will not be published.

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com