Main Menu

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

হলিবিডি প্রতিনিধিঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন। আকাশ ছোঁয়া পেঁয়াজের দর, ক্রেতার নাগালে আসেনি আজও। শীতকালীন শাক-সবজির রেকর্ড মূল্যে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। আবারও বাড়ছে এলপি গ্যাসের দাম। আসন্ন বছরে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির আগাম নোটিশে দুশ্চিন্তার ছাপ কপালে। এতোসব ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার।

খুলনাতে এবার চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত দু’সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। ৫০ কেজির বস্তা প্রতি (মিনিকেট সিদ্ধ) চালে প্রথমে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পরে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। গতকাল খুচরা বাজারে বিআর ২৮ জাতের চাল কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৩৪-৩৬ টাকা, গুটিস্বর্ণা (মোটা চাল) ২৬-২৮ টাকা এবং মিনিকেট প্রকারভেদে ৪৮-৫৫ টাকা। তবে চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুচরা বা পাইকারি ব্যবসায়ীরা কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কথা বলার সময় সবার মধ্যেই এক ধরনের ভীতি লক্ষ্য করা গেছে।

চালের খুচরা ও পাইকারি বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানার পর থেকে। ওই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দেশে ফসলহানির সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন অটো রাইস মিলের মালিকেরা।নগরীর বড় বাজারে মেসের জন্য চাল কিনতে আসা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী মাকসুদুল আলম বলেন, ‘২০/২৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা ছুঁইছে। দফায় দফায় চালের দাম আবারও বাড়ছে। নির্দিষ্ট অর্থে এখন মেসেও চলতে পারছি না; অভিভাবকদের আয় তো বাড়েনি, তাই বাড়তি পয়সাও চাইতে পারি না।’

পাশে থাকা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এক মাস আগের চেয়ে কেজিতে পাঁচ টাকা বেশি দরে চাল কিনলাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্য-দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। জনগণ চুপ মেরে আছে। ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।’

রিকশা চালক বাবুল আক্তার বলেন, ‘দাম বেড়ে যাওয়াতে পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিছি। এবার চালের দাম বেড়েছে। তাহলে ভাত খাওয়াই ছেড়ে দিতে হবে?’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২০/২৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ তিনশ’ ছুঁইয়েছিল, তবে এখন ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দু’সপ্তাহ আগে রসুনের দাম ছিল কেজি প্রতি একশ’ টাকার নিচে, এখন প্রকারভেদে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুঁড়াদুধের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২০ টাকা। এভাবে ভোজ্য তেল, শুকনো মরিচ, আটা, ময়দা, ডাল ও মসলার দাম বেড়েছে। বেড়েছে মসলার দামও।

দাম না কমার পেছনের কারণ হিসেবে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকার কারণেই বাজারে পেঁয়াজের দামের এই ঊর্ধ্বগতি। যে পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। সরকার সংশ্লিষ্টদের অনেকেই এই তথ্যকে সত্য বলে মনে করছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের একটি পক্ষ বলছেন, আড়তদারদের কারসাজিতেই পেঁয়াজের দাম এতটা বেড়েছে।

পেঁয়াজের আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন পেঁয়াজের যে চাহিদা তুরস্ক, মিশর, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে বর্তমানে সেই পরিমাণ পেঁয়াজ আসছে না। চাহিদার চেয়ে সরবরাহ অনেক কম। আবার আমদানিকারকরাও তেমনভাবে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। টিসিবি বা সরকার যদি সরাসরি পেঁয়াজ আমদানি করতো তাহলে হয়তো সংকট কিছুটা দূর হতো। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

শীতকালীন শাক-সবজি’র কিনতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতাসাধারণ। শীতকালীন সবজি ফুলকপি ৬০/৭০ টাকা, পাতাকপি ৫০ টাকা, ওলকপি ও শালগম ৬০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা। আর পেপে ২০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, জলপাই ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, এলপি গ্যাসের দাম গত সপ্তাহ থেকে চলতি সপ্তাহে সিলিন্ডার প্রতি আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে এগারশ’ টাকায় পৌঁছাবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

কনজ্যুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) খুলনার সভাপতি এড. এনায়েত আলী বলেন, বিদেশ থেকে কার্গোবিমানে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে, তার প্রভাব বাজারে পড়ছে না কেন? চালের সংকট নেই, উঠছে আমন ধান; এ মুহূর্তে কেন চালের মূল্য বৃদ্ধি? শীতকালীন শাক-সবজির মূল্য অনেক বেশি। নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালু থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য রুখে দেয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জনউদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই খুদা বলেন, একবার একটি পণ্যের দাম বাড়লে, সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও সেই পন্যর আর দাম পূর্বের স্থানে আসে না। এভাবে প্রত্যেকটি পন্যের দাম বাড়ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।






Related News

Comments are Closed