টাকা ছাড়া চাকরি হবে, কখনো ভাবতে পারিনি’

প্রকাশিত হয়েছে : ৫:৩৪:১২,অপরাহ্ন ০৯ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ৩১ বার পঠিত

হলিবিডি ডেস্ক: ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল দেশ ও জনগণের সেবা করার। কিন্তু সে স্বপ্ন কিভাবে বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে ভাবতো রুনা খাতুন। তাই এক রকম নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে কোনো বাহিনীতে চাকরি নেবে। কিন্তু তাকে চাকরি দেবে কে? চাকরি নিতে যে অনেক টাকা লাগে।

এসব ভেবেই অপেক্ষা করছিল রুনা। এরমধ্যে টাঙ্গাইলে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বিষয়ে জানতে পারে। টাকা ছাড়া চাকরি হবে এমন খবরে স্বপ্ন পূরণের কথা ভাবতে থাকে সে। তাই সুযোগ হাতছাড়া না করতে ১শ’ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও তিন টাকার ফরম কিনে চাকরির আবেদন করে।

গত ১ জুলাই স্বপ্ন পূরণের আশা নিয়ে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়ায় রুনা খাতুন। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতেও সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় সে।

গত রোববার রাতে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে যখন চূড়ান্ত ফলাফলে রুনার নাম ঘোষণা হয়, তখন আনন্দে কেঁদে ফেলে রুনা খাতুন। শুধু রুনা খাতুন নয় সেদিন রাতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর বেশিরভাগ প্রার্থীই খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠে।

রুনা খাতুন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সূতি বলাটা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে। ২০১৬ সালে সূতী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করে। ২০১৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোপালপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয় সে।

নিয়োগ পাওয়ার পর রুনা খাতুন জানায়, আমার বাবা রিকশা ও ভ্যান চালান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মা এখন অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। এতে কোনো মতে সংসার চলতো। লেখাপড়ার খরচ যোগাতে নিজে টিউশনি করেছি। সেখান থেকে যে আয় হতো তা দিয়ে ছোট ভাই রবিউল আওয়ালের লেখাপড়া চলতো। তাই খুব প্রয়োজন ছিল চাকরির। বিনা পয়সায় চাকরি পেয়ে খুব খুশি আমি। টাকা ছাড়া যে চাকরি হবে, এটা কখনো ভাবতেও পারিনি। তাই নিয়োগ বোর্ডের সব কর্মকর্তাকে শ্রদ্ধা জানাই।

রুনা খাতুন আরো জানায়, ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল কোনো বাহিনীতে চাকরি নিয়ে দেশ ও জনগণের সেবা করবো। তার মধ্যে পুলিশের ড্রেসটা আমার কাছে খুব ভালো লাগতো। তাই পুলিশে চাকরি পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।

রুনা খাতুনের মা অভিরন বেগম বলেন, স্বপ্ন ছিল আমার মেয়েকে পুলিশ অফিসার বানানো। আল্লাহর রহমত ও টাঙ্গাইল এসপির সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সংসারে আর কোনো অভাব অনটন থাকবে না।

এসপি সঞ্জিত কুমার রায় জানান, এবার শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে টাঙ্গাইলে ১৩৬ জন কনস্টেবল পদে নিয়োগ হয়েছে। পরীক্ষার খরচ বাবদ মাত্র ১শ’ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও তিন টাকার ফরমের দাম ছাড়া তাদের আর কোনো টাকা লাগেনি। গত ১ জুলাই সাত হাজার নারী-পুরুষ কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়ায়। প্রাথমিক বাছাই শেষে শারীরিক পরীক্ষার পর ৭৩৩ প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষায় ২৫৩ জন উত্তীর্ণ হয়।

এসপি আরো জানান, সাধারণ পুরুষ ৮১ জন, সাধারণ নারী ২৭ জন, পুরুষ মুক্তি ১৫ জন, নারী মুক্তি পাঁচজন, পুলিশ পোষ্য পুরুষ পাঁচজন, পুলিশ পোষ্য নারী একজন, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি পুরুষ দুইজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর আগে কনস্টেবল পদে নিয়োগের এক মাস আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি দিব। সে কথা আমরা রেখেছি।

About rezwan rezwan

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com