Main Menu

চুক্তিভিত্তিক রেকর্ড কিপার আবারও চুক্তিভিত্তিক রেজিস্টার হতে মরিয়া!

হলিবিডি প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ূর্বেদিক বোর্ড গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আধা-স্বায়ত্ত শাসিত সংস্থা, উক্ত বোর্ডের রেজিস্ট্রার এ.কে.এম হারুনুর রশিদ দুর্নীতিতে বেশুমার। রেজিস্ট্রার হারুন উক্ত বোর্ডে গত ০১/০৮/১৯৮১ সালে চুক্তিভিত্তিক রেকর্ড কিপার পদে ৫০০ টাকা বেতনে কর্মচারী হিসাবে যোগদান করে। মাত্র ২-৩ বছরের মাথায় কোন পদ না থাকায় স্টোর কিপার হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়।
ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষা ব্যতীত বোর্ডের সহজ সরল সদস্যদের হাতে পায়ে ধরে বুঝাইয়া স্টোর কিপার, পরবর্তীতে নিজে নিজে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ সৃষ্টি করে কাজ করে। বোর্ডের স্টেনোটাইপিস্ট পদটি (এনাম কমিটির) বিলুপ্ত করে তিনি সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম দিয়ে নিজের সুবিধার জন্য করে কাজ করেছেন। পরে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করে স্টেনোটাইপিস্ট পদ উঠিয়ে দিয়েছে যাহা এনাম কমিটির পদ ছিল।
বোর্ডের এনাম কমিটির পদগুলো হলো ১। রেজিস্ট্রার, ২। উচচমান সহকারী/ প্রধান সহকারী, ৩। হিসাব রক্ষক/ক্যাশিয়ার/স্টোর কীপার/ টাইপিস্ট-কাম-ক্লার্ক ২টি, এম.এল.এস.এস ৪টি,
গবেষণা কর্মকর্তা( ইউনানী) ১টি,
গবেষণা কর্মকর্তা (আয়ূর্বেদিক) ১টি,
ল্যাব. এসিসটেন্ট (ইউনানী) ১টি,
ল্যাব.এসিসটেন্ট (আয়ূর্বেদিক) ১টি,
ফার্মেসী এটেনডেন্ট ১টি,
এম.এল.এস.এস -১টি,

বোর্ড আয়োজিত ২৪ ধারার পরীক্ষার নামে কোটি টাকা কয়েক দফায় হাতিয়ে নিয়েছেন, বিশেষ করে নোয়াখালী সেনবাগ বসন্তপুর গ্রামের বি- ক্যাটাগরী হাকীম সেকান্দর আলম ও তার ভাই নাজিরকে ১৯৮৮ সালে বি-ক্যাটাগরীর পরীক্ষার পাস করাইয়া ২৫০০০/- টাকা করে নিয়েছেন রাত্রের আধাঁরে পরীক্ষা দিয়ে। তৎকালীন ফার্মগেটের হোটেল সুরমায় রাত্রে পরীক্ষার খাতা হোটেল কক্ষে লেখাইয়া নিয়ে তাদেরকে পাস করাইয়াছেন। এভাবে বসন্তপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক হাকীম-কবিরাজ কে এভাবে পাস করাইয়া লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মিঃ হারুন আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানী মামলার আসামী হয়েও ১৯৮৯ সালে ৬ মাস এবং ১৯৯০ সালে ৬ মাসসহ মোট ১ বৎসর জেল খেটেছে, দুঃখ জনক ব্যাপার হলেও সত্য যে,তিনি আবার কি ভাবে একটা বোর্ডের সর্বোচ্চ চেয়ার দখল করে আজীবন থাকতে চান। জেলে থাকাকালীন সময়ে হারুনকে সাসপেনশন করা হয়েছিল এবং এসব অনিয়মের কারনে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাও হইয়াছে, সে বোর্ডের রেজিষ্ট্রার হওয়ার পর হইতে বিবিধ খরচের জন্য প্রতি মাসে ২০.০০০ টাকা উত্তোলন করে নিজে ব্যাক্তিগত ভাবে নিয়ে যান, অফিসের জন্য কোন খরচ না করে ভূয়া বিল ভাউচার নিয়ে সমন্বয় করে হিসাব মিলিয়ে দেন। বোর্ডের সাবেক রেজিস্ট্রার মো. সাদ উল্লাহ মজুমদার এবং হিসাব রক্ষক শ্রী জগদীস চন্দ্র পান্ডে কে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাদের দুজনকে চাকুরীচ্যুত করে দেশের বাহিরে পাঠিয়ে দেন কুটকৌশলী হারুন। বিদ্যুত বিল ৫১,০৫৩/৭০ ( একান্ন হাজার তিপ্পান্ন টাকা সত্তর পয়সা) হিসাব রক্ষকের যোগ-সাজসে এসব কাজ হয়। এবিষয়ে মামলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্রসংখ্যা ২৩.০৪.০১.০১২০০০/২৯৮ তারিখ ০৪/০৫/২০০০ইং এর প্রেক্ষিতে। ঢাকা মতিঝিল থানার অভিযোগ পত্র নং ৪৭১ তারিখ ১৯/০৬/২০০০ইং এবং ২৫/০৭/২০০০ ইং মতিঝিল থানার মামলার অভিযোগ পত্র দাখিলের প্রেক্ষিতে সুত্র মামলা নং ১৯/১০/১৯৯৬ইং ধারা দন্ডবিধির ৪০৯/৪৬৭/৪, ৪৬৮/৪৭১, ৪৭১(ক)/১০৯/১৯৪ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারায় সেই দুই ব্যাক্তিকে মামলায় জড়িয়ে সুকৌশলে রেজিস্ট্রার পদটি দখল করে নেন হারুন। উক্ত মামলার রায়কালীন সময়ে হারুন নিজে রফাদফা করে আদেশ করান যেই দিন থেকে আসামী ধরা পড়বে ঐ তারিখ হইতে ২০ বছর কারাভোগ করতে হইবে। আসামীদের মধ্যে আমেরিকায় আছেন সাবেক রেজিস্ট্রার সাদ উল্লাহ মজুমদার এবং হিসাব রক্ষক শ্রী জগদীস চন্দ্র পান্ডে।মিঃ হারুন ২০০৪ সালে ৫ জন লোক নিয়োগ দিয়েও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডিপার্টমেন্টাল কর্মচারীদের সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও তাদের নিয়োগ দেয়া হয় নাই। বর্তমানে রিসার্চে কর্মরত হাকীম আবুল কাশেম এর যোগ্যতা থাকা সত্বেও পদোন্নতি দেয়া হয় নাই। মোটা অংকের টাকা খেয়ে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গবেষনা কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহকে নিয়োগ দিয়েছেন, সে কিছুদিন চাকুরী করার পর অস্ট্রেলিয়া চলে যায়। এই পদে পরপর বিজ্ঞাপন দিয়েও লোক নেয়া হচ্ছে না বলে আফসোস করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের জনৈক ব্যক্তি। বোর্ডের হিসাব রক্ষক পদে বোর্ডে কর্মরত ক্যাশিয়ার আব্দুল মালেক ২০০৪ সাল হতে ১৪ বৎসর যাবত চাকুরী করিতেছে,সে দরখাস্ত করার পরও তাহাকে লিখিত পরিক্ষায় ফেল করাইয়া মোটা অংকের টাকা দিয়ে অন্য লোক নিয়োগ দিয়েছেন মিঃ হারুন। ২০১৮ সালে ১১ জনের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে ১জন, শাখা কর্মকর্তা পদে ১ জন, প্রধান সহকারী পদে ১জন, এমএলএসএস পদে ২জন, কম্পিউটার অপারেটার পদে ২জন, গোপনীয় সহকারী পদে ২জন, ক্যাশিয়ার পদে ১জন, হিসাব রক্ষক পদে ১জন সহ মোট ১১ জন লোক নিয়োগ দেন মিঃ হারুন। বর্তমানে আরো ৫জন লোক অবৈধ ভাবে নিয়োগ দিতে আবারও ব্যস্ত। তন্মধ্যে গবেষনা কর্মকর্তা (ইউনানী) পদে ১ জন,গবেষণা কর্মকর্তা ( আয়ূর্বেদিক) পদে ১ জন, শাখা কর্মকর্তা পদে ১জন, এমএলএসএস পদে ২ জনসহ মোট ৫ জন নিয়োগ দিতে আবারও চুক্তিভিত্তিক রেজিস্টার হতে দৌড় জাপ শুরু করেছেন মিঃ হারুন।






Related News

Comments are Closed