Main Menu

চা– শ্রমিকরা এখনো আদি যুগে! বাড়ি গাড়ি সম্পদের মালিক নেতারা

জুলহান চৌ্ধুরী ফেঞ্চুগঞ্জ: চার যুগে ও ভাগ্য বদলায়নি চা শ্রমিকদের! এখনো পাননি পূর্ণ অধিকার! স্হায়ী ভিটেমাটি শিক্ষা স্বাস্থ্য ও মজুরি সহ নানা সূযোগ সুবিধা।

তবে এর পিছনে শ্রমিক সংগঠনের নতজানু নেতৃত্বকেই দায়ি করেন সাধারন শ্রমিকরা। তারা মনে করেন চা শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের দূর্বল নেতৃত্ব তাদের পিছিয়ে রেখেছে।

উপমহাদেশের প্রথম চা জগতের শুরূ ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনিছড়ায়। আর সেই থেকেই চায়ের সাথে চা শ্রমিকদের জীবন চলা শুরু।

প্রায় ১৪২ বছর পর ও বদলায়নি চা শ্রমিকদের জীবন। চা শ্রমিদের ভাল মন্দ দেখার জন্য রয়েছে চা
শ্রমিক ইউনিয়ন।চা শ্রমিকের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ১৯৪৮ সালে চা শ্রমিক ইউনিয়নের যাত্রা
শুরূ হয়।

জানাযায় জনৈক এম সোলায়মান আলী কুলাউড়ায় শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম পরিচালনাকালীন
সময় চাদা আদায়সহ নানা তৎপরতা শুরু করেন।

এর পর দীর্ঘ দিন চা শ্রমিকের কল্যাণে কাজ করা সংগঠন
একটি পরিবারের নিয়ন্ত্রনে থেকে যায়। এক সময় বিষফোড়া মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। পথন ঘটে সেই বুনার্জি
পরিবারের।

এর পর ২০০৮ সালে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সংগ্রাম কমিটির প্রধান মাখন লালা কর্মকার
সভাপতি এবং রাম ভজন কৈরি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।

কিছুটা সমস্যা সমাধানের চে্ষ্টা করেন মাখন লাল ও রাম ভজন কৈরি।  বছর খানেক পর আবার চা শ্রমিক ইউনিয়নের দখন চলে যায় বুনার্জ চক্রের হাতে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়,দুই বছর পর পর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার কথা রয়েছে।

কিন্তু এতে ও রয়েছে নানা বৈষম্য। চা বাগান পঞ্চায়েতের নেতাদের সাথে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের দূরত্ব রয়েছে বলে জানান মনিপুর চা বাগান পঞ্চায়েতের সাধারন সম্পাদক সুভাষ কৈরি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা কাজের কাজ কিছুই করে না।  আমাদের এখনো কত সমস্যা রয়েছে তারা দেখে না।

তারা ব্যস্ত থাকে শু্ধু টাকা উঠাতে। আমরা বাগানে কি পরি্শ্রম করে খাটি কিন্ত সেই পরিমানে আমাদের মজুরি পাই না।

আমাদের রয়েছে আবাসন সমস্যা, স্বাস্হ্য সমস্যা রয়েছে মৌলিক আর কিছু সমস্যা যা নিয়ে তারা মোঠে ও ভাবে না যদি আমরা কোন আন্দোলন করি তখন তারা আমাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আর শ্রমিকের কোন সমস্যা হলে তারা সাহেবদের সাথে আলাপ করে।

শ্রমিকের কল্যানে যদি কাজ করে তবে এই বাগানের পুরোনো শ্রমিক মৃত এরশাদ আলীর ছেলে চা শ্রমিক চান মিয়াকে কেন বাগান থেকে উচ্ছেদ করা হলো, এবং ইউনিয়নের নেতারা কি ভূমিকা রাখলো, কেন আজ ও চান মিয়া তার চাকরি ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে কি করল তারা এই প্রশ্নে এড়িয়ে যান সুভাষ কৈরি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানাযায়, প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার কথা।

২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর চা শ্রমিকদের জমুরি বাগান বৃওিক দৈনিক ৪৮ টাকা ৪৬ টাকা ও ৪৫ টাকা নির্ধারন করা হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট যা বাংলাদেশ চা এসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দ্বি -পাক্ষিক  চুক্তি হয়।

২০১১ সালের ৩১ আগষ্ট মুজুরি সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে চা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা
বাধতে শুরূ করে। ফলে মালিক পক্ষ ৪৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫২ টাকা এবং সর্বশেষ সর্বোচ্চ মুজুরি ৬৯ টাকা
নির্ধারন করে।

কিন্তু এতে ও শ্রমিকদের অভিযোগ রয়েছে অভিযোগে শ্রমিকরা জানায় দুই বছর অন্তর অন্তর মজুরি বৃদ্ধির কথা চুক্তিতে থাকলে ও প্রতিবার সময় অতিবাহিত হওয়ার পর শ্রমিকদের চাপে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ও তাথে থাকে গাফলা।

আজ থেকে ও কয়েক বছর আগে চা শ্রমিকরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিভিন্ন দাবি আদায় সহ মজুরি বৃদ্ধি  আদায়ের লক্ষে চা শ্রমিক
ইউনিয়নের নির্বাচন শ্রমিক নেতারা আন্দোলন শুরূ করলে ২০১৪ সালের ১০ আগষ্ট দেশের ২২৭ চা বাগানে
নির্বাচন অনুষ্টিত হয়।

নির্বাচনে পুনরায় চা শ্রমিক ইউনিয়নের মাখন লাল কর্মকার সভাপতি রামভজন কৈরি সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৫ সনের ৬ অক্টোবর মজুরি ৬৯ টাকা থেকে ৮৫ টাকায় উন্নিত হয়।

দুই বছর মেয়াদি চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত। মুনিপুর চা বাগানের পঞ্চায়েতে নেতা সুভাষ  বলেন বার্তমান ইউনিয়ন নেতাদের আয়ের কোন উৎস ছিল না।
তাদের নিজস্ব জায়গা জমি ছিল না, তাদের জমি ছিল না।

এখন তারা লক্ষ লক্ষ টাকা ও গাড়ি বাড়ির মালিক
হয়েছেন। তেমন ভাবে স্বাস্হ্য, শিক্কাসহ চা বাগান শ্রমিদের কোন উন্নয়নই হচ্ছে না। পাচ্ছেন না বাজার দরের
সাথে নায্য মজুরি। এছাড়া নানা ফাক ফোকরে শ্রমিদের শোষন করা হচ্ছে।

চা শ্রমিকদের অভিযোগ মজুরিবৃদ্ধি, চিকিৎসা, বাসস্থান, পানীসহ আনুষাঙ্গীক সকল সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির
বিষয়ে নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা মাসিক চাদা আদায়ে ব্যস্ত থাকেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে আবার ও মাখন লাল কর্মকার সভাপতি ও রামভজন কৈরি সাধারন সম্পাদক নির্বাচীত হন।

চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন ২০১৮ সালের ২০ আগষ্ট বাংলাদেশ চা সংসদে ও সম্পাদিত এক চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০২ টাকা এবং
৩২ দিনের মুজুরির সমান উৎসব বোনাসের স্হলে ৪৫ দিনের মুজুরির সমান উৎসব বোনাস করা হয়
তবে স্হায়ী শ্রমিকরা এ বোনাস পাবেন, এর মধ্য ২৫০ দিন কাজে হাজির থাকবে তারা এই হারে বোনাস পাবে
তার মধ্যে ৬০ পারসেন্ট পাবে দূর্গা পূজায়।

আর চল্লিশ পারসেন্ট পাবে দুল পূর্নিমায়।  পাশাপাশি মালিক পক্ষের দাবি অনুযায়ী নিরিখ( পাতি উওোলন কলম চারা ১৬ কেজি ও খাড়া চারা ২০ কেজি) বৃদ্ধি করা
ও নুন্যতম তিন দিন কাজের পরিবর্তে চার দিন কাজ করলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদানের বিষয়টি
নির্ধারন হয়।

চা শ্রমিকরা অভিযোগ করেন চুক্তি অনুযায়ী চা- শ্রমিকদের মজুরি বার্ষিক বোনাস ৪ হাজার ৫৯০ টাকা।

দুর্গা পূজায় বকেয়া সহ ৩ হাজার ৫০০ টাকা উৎসব বোনাস প্রদান করার কথা থাকলে ও সকল শ্রমিকে  সমান হারে উৎসব বোনাস প্রদান করা হয় না।

দৈনিক মাত্র ১০২ টাকা মজুরিতে বার্তমান বাজারদরে যেখানেদু বেলা ডাল ভাত জুটানো দায়, সেখানে আনন্দ উৎসব করা তো দুরের কথা।

শ্রমিকরা আর অভিযোগ করেন চা বাগান
কর্তৃপক্ষ দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসব বোনাস প্রদানে ও বৈষম্য তৈরি করেছেন।

সেখানে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের কোন ভূমিকা দেখা যায় বলে জানায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন আমরা বাড়তি কোন সূযোগ সুবিধা নিচ্ছি না।

আমরা শ্রমিকদের বেলায় সব সময় আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং যাব শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমরা মালিক পক্ষেরর সাথে দফায় দফায় কথা বলছি।

শ্রমিকদেন জীবন মান পরিবর্তনের চেষ্ট করে যাচ্ছি। তাদের অধিকার নিয়ে আমরা  লড়াই করছি।






Related News

Comments are Closed