Main Menu

ঘুণেধরা সমাজের হালচাল অতঃপর প্রসঙ্গকথা

এম.সোহেল রানা, মেহেরপুর
.
আজ আমাদের ঘুণেধরা সমাজ ভেঙে পড়ার পেছনে বহু ঘটনা রয়েছে। এমন ন্যাক্কার জনক কাজ চোখের সামনে নাকের ডগায় বসে কত ঘটনাই না ঘটে যাচ্ছে এ সমাজের বুকে, মনে হচ্ছে সমাজে বসবাসরত মানুষগুলো যেন নির্বিকার বাকরুদ্ধ অসহায়, দেখেও দেখতে পাইনা শুনেও শুনতে চাইনা। ঘুনেধরা ভেঙ্গেপড়া সমাজের এমন হালচালের কারণ অনেকে মনেকরে- সমাজপতি মন্ডল, মালিথা, মাতব্বরদের বিচারকার্যে ছিল স্বজনপ্রীতি ক্ষমতার অপব্যবহার। সেকালে জমিদার, গেরোস্ত, ধনী শ্রেনির লোকদের কর্তৃক গরিব দিন মজুরী শ্রেনির লোকেরা ছিল শোষিত নিপীড়িত নির্যাতিত। এমনো হয়েছে গরীবদের সন্তানেরা গেরোস্তদের বাড়িতে পেটভাতা রাখাল খেটেছে দিনের পর দিন। সন্তাদের বড় করার জন্য দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জুটাতে গেরস্তোদের সাথে এক কাঠা ধান ধার আনলে সুদসহ দুই কাঠা ধান ফেরৎ দিতে হয়েছে। নুন আনতে পানতা ফুরোনো এই খেটে খাওয়া দিন মজুর লোকদেরকে। তাঁরা যা বলতো তাই মুখবুঝে মেনে নিতে হত। এক সময় সমাজপতিরা মনে করতো বিচার কার্য আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির মত কোনদিন আমাদের হাতছাড়া হবেনা। সমাজে আমরা যে রায় দিব সেটাই বলবৎ থাকবে। সমাজে দূর্বল শ্রেনির লোকদের দিকে চেপে বিচারকার্য পরিচালিত হতো, আগে হতেই দূর্বল শ্রেনির লোকেরা সঠিক বিচার পেতনা। কিন্তু তাঁরা মনে মনে সৃষ্টি কর্তার নিকট বিচার দিয়ে রাখত মনে বলে সেই গরিব দূর্বল শ্রেনির লোকেদের আকূতি মিনতি সৃষ্টিকর্তা শুনেছে। সেই বিচারের ফলস্বরূপ যার ফলে আজ সমাজের পাশকাটা বিচারকার্য ভেঙ্গে পড়েছে। সেই গেরোস্তদের বংশদ্ভুত অনুসারিরা এখনো সেই ভাবে দিন কায়েম করতে চাই। কিন্তু না এখন মানুষ বুঝতে শিখেছে তাদের দিন শেষ এখন তাদের প্রাপ্তির বেলা। বর্তমানে সমাজে কোন বিচার বসেনা, বেশির ভাগ সমাজে আর বিচার নেই , সমাজে কেউ কারো কথা মানে না, মানতে চাইনা। ভেঙ্গেছে সমাজ, হারিয়েছে বড়দের সম্মান, ফুরিয়েছে ছোটদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা। এখন যে যার মত করে চলে নিজ স্বাধীন, কেহ কারো নিকট জবাব দিহিতা নেই। স্ত্রী নেই তার স্বামীর, সন্তান নেই তার বাবা মায়ের। ভাই শোনেনা তাঁর ভাইয়ের কথা। যে যার মতো করে চলছে। যার ফলে গ্রাম্য ঘুণেধরা সমাজের এই অধঃপতন। আবার এটা শেষ জামানার কিছু লক্ষ্যণ বলে অনেকে অনুমান করছে। আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখা উচিৎ আগামী প্রজন্মের জন্য নিজেকে ছাড় দেওয়া। ভবিষ্যৎ প্রজন্মেকে সাথে নিয়ে নিজের স্থান ছেড়ে তাদের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া। নিজেদের অস্তিত্ত টিকিয়ে রাখতে সু-দীর্ঘ পরিকল্পনা ভিত্তিক কাজের ভিত্তিটা আরো শক্ত ও মজবুত করে গড়ে রেখে যাওয়া। তবেই তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদেরকে জানতে চাইবে, বুঝতে চাইবে। দুঃখের বিষয় যে, সে দিক থেকে আমরা না ছোড় বান্দা। প্রাণ গেলেও নিজের স্থান ছাড়তে রাজি নয়।
আমাদের এই ঘুণেধরা সমাজে এমন না বলা কত ঘটনাই না ঘটে যাচ্ছে- আবার না বললেই নয়। নারীই নারীদের বড় শত্রু হয়ে আছে। কত “বউ” শ্বশুর-শ্বাশড়ী ও ননদের নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে। স্বামী থেকেও তার প্রতিবাদ করতে পারে না। সে কোন স্বামী যে তার বাবা-মা, ভাই-বোন আর বউয়ের মধ্যে সঠিক দোষগুণ খুঁজে বিচার করতে জানেনা? সেই স্বামী কি অন্য বাবা-মায়ের প্রিয় সন্তান মেয়েটিকে বিয়ে করে এনে তার প্রতি স্বামীর অধিকার দিতে কতটুকু সক্ষম হলো? না শুধু বিয়ে করে ফরজ আদায় করলো? এ আবার কেমন ফরজ? কি ধরনের ফরজ আমার মাথায় ধরে না। একটি মেয়েকে বিয়ে করে দায়িত্ব নিলে কিন্তু সেই মেয়েটি কি তোমার বাবা-মায়ের ও ননদের নির্যাতনের বলি হতে হবে? এ কেমন বিচার। এ বিচারটা না হয় শ্বশুর-শ্বাশড়ী ও ননদিনির উপরেই ছেড়ে দিলাম। তোমাদের মনোভাব পরিবর্তন কর, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাও।
বর্তমান আধুনিক সমাজে যেটা বেশী লক্ষ্যনীয়- বেহায়াপনা প্রেম-পিরিতি সংঘটিত ঘটনা! প্রেম ভালোবাসার টানে তিলে তিলে দীর্ঘ দিনের গড়া সংসার ভেঙ্গে স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্যের সাথে চলে যাওয়া, ঘরে স্ত্রী সন্তান রেখে অন্য নারীকে বিয়ে করা। কত নাবালক বালিকা জন্মদাতা বাবা মায়ের সাথে রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্য ছেলে/মেয়ের হাত ধরে পাড়ি জমানো ইত্যাদি। কোথায় সেই নৈতিকতা মানবতা আর মান সম্মান এ সম্পর্কে একটু বলতে চাই। প্রেম-ভালোবাসার সূচনা কোথা থেকে, সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক সকল সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই পবিত্র প্রেমের সৃষ্টি। কিন্তু সেই প্রেমের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি ছিল? আর আমাদের প্রেমের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্যটা আসলে কি? আকাশ-জমিন পার্থক্য। আমাদের প্রেমের লক্ষ্য কি জন্মদাতা বাবা মায়ের কথা অবাধ্য হয়ে তাদেরকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে নিজের সুখের জন্য অন্যের হাত ধরে চলে যাওয়া? নিশ্চয় তা নয়, সন্তানের জন্য কি বাবা মা সুখ ও সাফল্য চাইনা? আমার জানা মতে, প্রকৃত পক্ষে জন্মদাতা জন্মদাত্রী পিতা মাতায় জগতে একমাত্র দু’জন ব্যক্তি নিঃস্বার্থে সন্তানের জন্য সুখ ও সাফল্য চেয়ে থাকে। কত শত সহস্র দুঃখ যাতনার পরও। তাহলে কেন বাবা মাকে দুঃখ দিব তাদের কথার অবাধ্য হবো? জগতের সকল সন্তানদের গভীর ভাবে দিব্যজ্ঞানে বুঝার চেষ্টা করা উচিৎ। বাবা-মা সন্তানের জন্য কত আশীর্বাদ। তবে একটু খেয়াল রাখতে হবে কথায় আছে “জন্মদাতা জন্মদাত্রী হওয়া সহজ কিন্তু প্রকৃত পিতা ও মাতা হওয়া কঠিণ”।
আজ উন্নত প্রযুক্তির বিশ্বে এখন উন্নয়ন ও উন্নতির মহাসড়কের বাহিরে নয় বাংলাদেশ। তাই আমাদের সন্তানেরাও আজ বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও বলতে শিখেছে। চলতে ও বলতে শিখেছে বলেই কোন বয়স সীমা বাঁধা অপেক্ষা করেই সকল বয়সের ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ আজ এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট ব্যবহারে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। এ প্রযুক্তি আমাদের জন্য যেমন আশীর্বাদ স্বরূপ তেমন ধ্বংশেরও কারণ। এ প্রযুক্তি আমরা আমাদের সন্তানেরা কি ভাবে গ্রহন ও তার ব্যবহার করবে। এখন আমাদেরকে ভেবে চিন্তে জানতে ও মানতে হবে কোনটা আমরা গ্রহন করবো বা পরিহার করবো। আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নিজের দেশ ও দশের জন্য তা কতটুকু মঙ্গল ব’য়ে আনবে।






Related News

Comments are Closed