Main Menu

ঘুণেধরা সমাজের হালচাল অতঃপর প্রসঙ্গকথা

২য় খন্ড

.
আমাদের অতি আদরের সন্তানেরা শাসনের গোন্ডি পেরিয়ে মোবাইল সেট পেয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল নাম্বার ডায়াল করে বা ফেসবুকের মেসেন্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ স্কাইপ, টুইটারস, ইউটিউব সহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে প্রেমের আলাপ-আলাপন শুরু করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় শিশু প্রেম। অনেক খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে ৭ম/১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল সেট তাঁরা নির্বিগ্নে ব্যবহার করছে। এমনকি বিদ্যালয় চলা কালিন ক্লাসেও মোবাইল সেট নিয়ে ক্লাস করে। শিক্ষকের কোন কথা শ্রবণ না করে গেমস বা ফেসবুক চালাচ্ছে। এগুলো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দেখেও না দেখার ভান করে কিছু বলেন না কারণ সেই শিক্ষার্থী ঐ শিক্ষকের নিকট টিউশনি করেন তাই। এমন খবরও পাওয়া যায় অনেক শিক্ষার্থীকে বলতে শুনেছি টিউশনে গিয়ে আমাদের স্যার বোর্ডে যে অংক তুলে দেন তা শিক্ষার্থীরা খাতায় না তুলে মোবাইল সেট দিয়ে ছবি তুলে রাখে পরে খাতায় তুলে নিবো এই বলে। এমন শিক্ষকও রয়েছে শিক্ষার্থীদের এমন কথাও মেনে নেন। কিন্তু কেন? এটা কতটুকু যৌক্তিক সবার নিকট আমার ছোট্ট একটা প্রশ্ন রেখে গেলাম?
তবে, আমি মনে করি এর জন্য দায়ী সর্বাগ্যে সকল অভিভাবক, এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমন কি আমাদের সমাজে জনসচেতন মহলরাও এ অভিশাপ থেকে দূরে নয়। তাই আমাদের রাষ্ট্রিয় সংবিধান কর্তৃক বাল্য বিবাহ রোধ কল্পে বিবাহ আইনে বয়সের সীমা রেখার আইন পাশ করা হলেও, বাল্য কালীন মোবাইল ব্যবহারের কোন বয়সের সীমা রেখা নির্ধারণ করা হয় নাই। আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রে সকল নাগরিক স্বাধীন ভাবেই চলাফেরা করছে। তাই আমার মনে হয় বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্র মোবাইল ব্যবহারের বয়স সীমা নির্ধারণ করে আইন পাশ করে সেটা বাস্তবাইনের জন্য অতিব জরুরী বলে আমি মনে করি।
আগের (পূর্বের) প্রেম-পিরিতির কথা বড়দের কাছ থেকে গল্প শুনেছি-
আগেকার ছেলে মেয়েরা প্রেম করেছে চিঠি লিখে বা সরেজমিনে দেখা সাক্ষাৎ করে। তাই তাদের প্রেম ভালবাসার মধ্যে মাধুর্য্যপূর্ণ, গুরুগম্ভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হত। কিন্তু এখন বিশ্বের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে আজকের সন্তানেরা অযৌক্তিক ভাবে। যার জন্যে এখনকার প্রেম ভালোবাসায় কোন গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছেনা, বেশি দিন টেকশোয় ও কোন মান মর্যাদা থাকছেনা। যেমন সহজ ভাবে সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে ঠিক তেমন সহজ ভাবেই ভেঙ্গে যাচ্ছে।
জ্ঞাণী-গুণী মনীষীরা বলে গেছে-“যে বস্তু পেতে সহজ তা হারাতেও সহজ আবার যে বস্তু পেতে কঠিণ তা হারাতেও কঠিণ”। আসল কথা হলো-
“ছেলে মেয়ের মধ্যে স্বর্গীয় ভাব ভালবাসা সৃষ্টির তরে সুন্দর মুহুর্তের কোন এক মহেন্দ্র ক্ষণই যথেষ্ট “।

.
এম. সোহেল রানা
লেখক পরিচিতিঃ কবি, গল্পকার, সাংবাদিক, সংগঠক, সম্পাদক এবং মাস্টার্স (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।






Related News

Comments are Closed