Main Menu

গোপালগঞ্জে সরকারি ওষুধ কারখানায় বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর

হলিবিডি ডেস্কঃ
এ ঘটনায় ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে

গোপালগঞ্জে ওষুধ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন কর্মচারী ইউনিয়ন ও কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদেরকে কার্যালয়ের ভেতরে অররুদ্ধ করে রাখেন কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা। খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনায় এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির ম্যানেজার (প্রশাসন) শাহাবুদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির জগলুল। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি গোপালগঞ্জ প্ল্যান্টের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সেখানে কর্মচারী ইউনিয়নের কোনো কমিটি নেই। কাজী ইউসুফ ও আজিজ চৌধুরী নামে দুইজন নিজেদেরকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দাবি করে প্ল্যান্টের সেন্ট্রাল ওয়্যার রুম দখল করে কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলো। এ প্ল্যান্টের প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। তাই এখানে সিবিএ বা ইউনিয়নের কার্যক্রমের কোনো বৈধতা নেই। সম্প্রতি সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে মূল ভবন থেকে সিবিএ কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিনিধি দল।

সে অনুযায়ী মূল ভবনের রুম ছেড়ে দেওয়ার জন্য দুই মাস আগেই কর্মচারী ইউনিয়নকে জানানো হলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনানুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে সিবিএর দখল করা রুমটিতে প্ল্যান্টের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মালামাল ঢোকানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের লোকজন দেয়ালে টাঙানো বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তারা উল্টো কর্মতাদেরকে অভিযুক্ত করে অররুদ্ধ করে রাখেন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। সেসময় উপস্থিত ছিলেন কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক। খবর পেয়ে পুলিশ এসে অবরুদ্ধদেরকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ইডিসিএল গোপালগঞ্জ প্ল্যান্ট কর্মচারী ইউনিয়নের স্বঘোষিত সভাপতি কাজী ইউসুফ এ ঘটনায় অফিসারদের দায়ী করে বলেছেন, তারা আমাদের ফাঁসাতে ওই রুম থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভেঙেছেন। ঘটনার সময় ওই রুমের সামনে অফিসাদের পাহারাদার কর্মরত ছিলেন। রুমে তালা দেওয়ার প্রতিবাদে আমরা গেট বন্ধ করে প্রতিবাদ করেছি। পরে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালকক প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির জগলুল বলেন, সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের রুম থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, যাদের স্বার্থহানী হয়েছে, যারা ওই রুমে থাকতে চেয়েছিলো তারাই ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর রাত ৮ টার দিকে কেন্দ্রীয় সিবিএ নেতারা আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন।






Related News

Comments are Closed