কয়রায় ফের লবণ পানি উত্তোলন, হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৮:৪৯,অপরাহ্ন ০৬ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত

হলিবিডি ডেস্কঃ
খুলনার কয়রায় পাউবোর বেড়িবাঁধে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে লবণ পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে বেড়িবাঁধ। যেকেনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে ওই এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত ২০১৮ সালে বছরের শুরুতেই অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে বাঁধে বসানো অবৈধ পাইপ অপসারণের কাজে নেমেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ জন্য চিংড়ি চাষিদের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তাতে সাড়া না দেওয়ায় সর্বশেষ তালিকা তৈরি করে অবৈধ পাইপ অপসারণের জন্য এসব চিংড়ি চাষিদের নামে নোটিশ জারী করা হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বা পাউবোর মহাপরিচালকের দাপ্তরিক আদেশ মোতাবেক সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হলেও কেউ সে নির্দেশ অনুসরণ করেনি। বরং পাউবোর নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিনিয়তই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের তলদেশ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে নদী থেকে পানি উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে কয়রা উপজেলা আবার প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে পাউবোর কর্তারা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উপকূলীয় এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩/১৪-১ ও ১৩/১৪-২ নম্বর পোল্ডারে কয়রা উপজেলায় নির্মিত পবনা ক্লোজার, লোকা, মঠবাড়ি, শিকারী বাড়ি ক্লোজার, নয়ানি স্লুইসগেট সংলগ্ন, কাটকাটা, গাজীপাড়া, কয়র সদরের অনেক জায়গা, জোড়শিং, আংটিহারা, গোলখালি এলাকার চিংড়ি চাষিরা বহাল তবিয়তে বাঁধ কেটে অথবা ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে এখনও নদীর পানি উত্তোলন করে চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সব এলাকায় দায়িত্বরত পাউবোর কর্মকর্তারা ঘের মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। যে কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপই ফলপ্রসূ হচ্ছে না। তবে পাউবোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে বসানো এসব পাইপ দিয়ে নিয়মিত নদীর পানি সরবরাহের কারণে বাঁধের ওই সব স্থান দিয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে।

তারা বলেন, সিডর ও আইলা নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়রা উপজেলায় যেসব স্থানে ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল, সেসব স্থানে বাঁধ ছিদ্র করে চিংড়ি চাষিরা পাইপ বসিয়েছিল। এসব বাঁধ মেরামত করতে একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতিসহ তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলায় পাউবোর ১৩-১৪/২ ও ১৩- ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ কেটে কিংবা ছিদ্র করে ৪০১টি স্থানে পাইপ বসানো হয়েছে। এ কারণে প্রায় ২১ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ১৩-১৪/২নং পোল্ডারে বানিয়াখালি এলাকার ১১৭ জন, ১৩-১৪/১ নম্বর পোল্ডারে আংটিহারা এলাকায় ৭৮ জন এবং ১৩-১৪/২নং পোল্ডারে আংটিহারা, গোলখালি, মহারাজপুর, বাগালি ও মহেশ্বরীপুর এলাকায় ১১৯ জন অবৈধভাবে বাঁধ কেটে পাইপ বসানো চিংড়ি চাষির নামে নোটিশ পাঠায় পাউবো কর্তৃপক্ষ। অথচ পাউবোর নির্দেশ উপেক্ষা করে সূচতুর ঘের মালিকরা বাঁধ কেটে চিংড়ি চাষ অব্যাহত রেখেছে।

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সেলিম আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে সকলকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরে নোটিশ করা হয়। তিনি বলেন, নোটিশের পর অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে মাটি দিয়েছে বলে জেনেছি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে এসব অবৈধ পাইপ অপসারণ করা হবে। এতে কাজ না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

About rezwan rezwan

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com