Main Menu

কাশ্মীর ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত কাশ্মীরিদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা

হলিবিডি ডেস্কঃ কাশ্মীর সংকট সমাধানে যথাযত ভূমিকা রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জাতীয় নেতৃবৃন্দের

ঢাকা, ১০ আগষ্ট ২০১৯ ইং
কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে এক সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ- এর পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী।

আজ ১০ই আগষ্ট ২০১৯ ইং শনিবার সকাল ১০টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ভারত অধিকৃত জম্মু কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বৃটিশ ঔপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৪৭ সালে ভারত যখন বিভক্ত হয়, তখন জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কাশ্মীরের জনগনকে গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, বর্তমান হিন্দুত্ববাদী উগ্র সন্ত্রাসবাদী বিজেপি সরকার তা বাতিল করে কাশ্মীরের জনগণের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ও ৩৫/এ ধারায় কাশ্মীরকে অন্যান্য রাজ্য থেকে আলাদা স্বকীয়তা দেয়া হয়। সেখানে অকাশ্মীরি কোন লোক সেখানে জমিজমা ক্রয় কিংবা চাকুরী-বাকুরী করতে পারবে না। নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র ও অর্থ ব্যতীত বাকী সব ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু ভারত বিগত প্রায় ৭০ বছর যাবত জাতিসংঘ সনদ উপেক্ষা করে সেখানে গণভোট দেয়নি। এ দীর্ঘ সময় ধরে ভারত কাশ্মীরিদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্যতম বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩৭০ ও ৩৫/এ (ক) ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে দু’ভাগ করে দেয়া হয়েছে এবং বিধানসভা বাতিল করে পুরো কাশ্মীর অঞ্চলকে কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে সেখানে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারী করে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও-তাড়াওসহ সম্ভাব্য সকল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। কাশ্মীরের নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য জনগনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের খাদ্য-রসদপত্র ও ইন্টারনেটসহ সকল যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তাঁদের জীবন আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় আমরা নিরব থাকতে পারিনা।

বৈঠকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে পাস্তিানের বিরুদ্ধে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে, তখন ভারত আমাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। ভারতের নাগরিক হিসাবে কাশ্মীরিরাও এ সহযোগিতায় ছিল। আজ সময় এসেছে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর। তাই আজকের এ সর্বদলীয় বৈঠক থেকে কাশ্মীরি জনগনের আন্দোলনের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বংলাদেশের জনগণ কাশ্মীরি মজলুম মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা ভারত সরকারকে সকল নিপীড়ন বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ কাশ্মীরিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

আজকের বৈঠকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কাশ্মীরী মুসলমানদের পক্ষে বক্তব্য রাখার ও কাশ্মীর সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার জন্য সরকারে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় যে, কাশ্মীরের জনগণের মানবাধিকার যেভাবে লংঘিত হচ্ছে তার প্রতিবাদ না করে সরকারের কতিপয় ব্যক্তির ভারত তোষণমূলক বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান । এছাড়া সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামসমুহের প্রতি কাশ্মীরিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানানো হয়।
বৈঠকে আগামী শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় এবং আসন্ন ঈদুল আজহা ও জুমআর বয়ানে কাশ্মীরী জনগনের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও দোয়া করার জন্য খতিবদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জযনুল আবেদীনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন জমিয়ত সহসভাপতি ও রাজনীতিবিদ মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী। বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম (বীর প্রতীক), ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক. জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ লেবার র্পাটির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশন্যাল আওয়ামী র্পাটির (ন্যাপ- ভাসানী) চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ঢাকা মহানগর যুগ্মসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, এন ডি পির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব এডভোকেট সৈয়দ মাহমবুব হোসেন, মাওলানা মুস্তফা তারেকুল হাসান, মাওলানা আবদুল গফ্ফার ছয়ঘরী প্রমূখ।






Related News

Comments are Closed