Main Menu

একজন সাইফুল্লাহ আল হোসাইন ও স্মৃতি কথা।

এমরান আহমেদ ফেঞ্চুগঞ্জ সিলেট :::
সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইনকে নিয়ে আবেগময় কন্ঠে স্মৃতিচারণ করেন চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এর দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাস্টার্স ফলপ্রার্থী আব্দুস সালাম তালুকদার। তিনি নিজের ফেইসবুক ওয়ালে বিদায়ী চেয়ারম্যানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন যা হুবহু তুলে ধরা হলো।
আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন তাকে কেউ কখনো অপদস্থ কিংবা অপমানিত করেন না। সেজো ভাইয়ার মাধ্যমে পরিচয় হয় সাইফুল্লাহ আল হোসাইন (ভাই)’র সাথে।উনার সাইফুল্লাহ নামটি শুনলে স্মৃতিপটে বিখ্যাত সাহাবী খালেদ সাইফুল্লাহ রাঃ কথা মনে পড়ে যেতো।না দেখেও উনার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিজের হৃদয়ে দৃঢ় হতে থাকে।

২০০৭ বা ০৮ সালে কোনো এক সামাজিকে অনুষ্ঠানে উনার সাথে ১ম সাক্ষাতে বিস্মিত হই।এতো সুন্দর করে আন্তরিকতার সাথে কথা বলা, কুশল বিনিময় করা। এমনকি উনার কথা বলার সময় উনার শব্দ চয়ন কিংবা কথার বলার ভঙ্গিমা আমাকে জাদুর মতো আকর্ষণ করেছিলো।
এরপর থেকে উনার কাছে থেকে যে স্নেহ পরায়ণতা কিংবা আন্তরিকতা সুলভ ভালোবাসা পেয়েছি তা কোনো দিন স্মৃতির মানস থেকে মুছে যাবে না।

নিজেকে একটু আড়াল করে রাখতে ভালোবাসি কিংবা কারো নিকট যেতে সংকোচবোধ করি কিন্তু সাইফুল্লাহ আল হোসাইন ভাইয়ের কাছে থেকে দূরে থাকতে পারিনি। শত ব্যস্ততার মাঝেও খবর রাখতেন পড়ালেখার কেমন চলতেছে কিংবা কোনো সমস্যা আছে কিনা! কোথায় দায়িত্বপালনে যাত্রা কালে গাড়ি করে যাওয়ার সময় যদি রাস্তায় দেখা হয়ে যায় তাহলে গাড়ি থামিয়ে কথা বলতেন। আমি নিজেই লজ্জায় পড়ে যেতাম ভাইয়ের এমন স্নেহ পরায়ণতা দেখে।

আরো একটি পারিবারিক ঘটনা শেয়ার করলে বুঝতে পারবেন সাইফুল্লাহ আল হোসাঈন কেনো সবার নিকট এতো জনপ্রিয়। আমার বাবা সেই স্বাধীনতা পূর্ব বা পরবর্তী সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দিন আওয়ামী লীগ ছাড়া কাউকে ভোট দেননি এবং এই নির্বাচনেও ইলাশপুর কেন্দ্রের সকালে ১ম ভোট টি আমার বাবা নৌকা প্রতীকে দিয়েছিলেন এবং উনি ভবিষ্যৎও দিবেন। কোনো দিনই আমরা উনার মতকে পরিবর্তন করতে পারিনি। আসল ঘটনা ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনের সময়। সাইফুল্লাহ আল হোসাইন তখন চাকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম কাকে ভোট দিবেন? এমন জবাব পাবো আমি আশা করিনি! বলেছিলেন, আমি আওয়ামীলীগ করি তো কি হয়েছে! যোগ্য, শিক্ষিত, পরিমার্জিত সাইফুল্লাহকে ভোট দিবো।কেননা ছেলেটার আচরণ বা ব্যবহার আমাকে আনন্দিত করেছে।

চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। ২০০৯ সাল,আমি ক্লাস নাইনে। মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের প্রস্তুতি চলছে। মাহফিলের একটা প্রয়োজনে মাদ্রাসার পাশের গ্রামে যাওয়া। প্রতিমধ্যে এমন একটি ষড়যন্ত্রের সাক্ষি হয়েছিলাম যা আজ অব্দি কাউকে বলিনি। সেই অপপ্রচার সবার জানা। নির্বাচন কালীন উনার ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে, পারিবারিক অনেক মিথ্যা অপবাদ উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।না শুনার ভান করে আমি দ্রুত স্থান ত্যাগ করি।যিনি এইকাজ করেছিলেন, তখনকার সময় তিনি তুখুর ছাত্র নেতা ছিলেন। সাইফুল্লাহ আল হোসাইন আছেন, উনিও আছেন কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর উনি দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা হিসেবে নজীর স্থাপন করেছিলেন তার বিদায় মূহুর্ত হাজার মানুষের অশ্রুশিক্ত চোখের পানি তার সাক্ষি। সেই ছাত্রনেতা আজ নিস্প্রাণ। শুরুতে বলেছিলাম, আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন তাকে কখনো অপদস্থ কিংবা অপমানিত করেন না বরং সম্মানিত করেন।

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় লোক মুখে অনেক শিক্ষার্থীর কাছে শুনেছিলাম উনাকে (সাইফুল্লাহ) মাদ্রাসা থেকে জোর পূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছিলো।সেই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন বিভিন্ন সময় পাবলিক পরিক্ষায় অত্র কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক পেইজে সেই ছবি গুলো দেখে একটি বিষয় বার বার মনে পড়েছিলো, যাকে বের করে দেওয়া হয়েছিলো সেই শিক্ষার্থীকে আল্লাহ সম্মানিত করে অত্র প্রতিষ্ঠানে পরিক্ষার হল গুলো পরিদর্শনের জন্য পাঠিয়েছেন।

আমি একটা কথা খুব মজা করে বলে থাকে আমাদের জাতীয় খেলা হাডু ডুডু। তাই আমরা একে অপর কে শুধু পা টেনে নিচে নামানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকি। তবে আল্লাহ যদি চান কখনোই পা ধরে পিছনে টানলেও সফলতা থেকে কাউকে দূরে রাখা যায় না। এমনি একজন আমাদের উপজেলায় জননন্দিত সফল চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন।

বিদায় নয় বরং জনগনের পাশে আরো সম্পৃক্ত থাকার আশা ব্যক্ত করি। ভালো থাকুন জনগনের জননন্দিত, জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জনাব সাইফুল্লাহ আল হোসাইন।






Related News

Comments are Closed