Main Menu

ঈদের আনন্দে কৃষকের ধান কাটলেন ৭০ হৃদয়বান

হলিবিডি ডেস্ক: ঈদের দ্বিতীয় দিন। বাড়ি-বাড়ি উৎসবের আমেজ। তবে এই আনন্দের সঙ্গে বেদনার ভাজ পড়েছে কৃষক ফকির জহুরুলের কপালে। কেননা গ্রামের প্রায়ই সবারই ধান কাটা শেষ। তার জমির ধান এখনো ঘরে তোলা হয়নি। আর্থিক অস্বচ্ছলতা আর শ্রমিক সংকটের কারণে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান মাঠে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তার বাড়ি পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামে।

ঠিক তখনই দেবদূত হয়ে এগিয়ে এলেন ৭০ জন। তারা কেউ ইউপি সদস্য, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী। ফকির জহুরুলের জমিতে নেমে পড়েন। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে পুরো মাঠের ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন তারা। এ সময় পুরো খলিসাগাড়ি বিলে সবাই ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে। তবে এরজন্য তিনি তাদের আপ্যায়ন করেছেন।

২০ কেজি চালের খিচুরি মাঠে বসেই সবাইকে খাওয়ালেন। এছাড়া চা-সিগারেট ও পানের ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। শুধু তাই নয়, যারা ধান কেটে দিয়েছেন এবং প্রতিবেশি প্রায় দেড়শ জনকে ওই দিন রাতে সাদা ভাত, মাছ দিয়ে কচুর ঘন্ট, মুরগির মাংস, পায়েস দিয়ে আপ্যায়ন করান ফকির জহুরুল। সব কিছুতেই ছিল উৎসবের আমেজ। বৃহস্পতিবার ঈদের আনন্দকেও ছাপিয়ে যায় সেই ধান কাটার উৎসব।

ফকির জহুরুল বলেন, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ধান পাওয়া যাবে ৪০ থেকে ৫০ মণ। আবাদের পেছনে যে টাকা খরচ হয়েছে ধানের দামের যেমন অবস্থা তাতে আবাদের অর্ধেক টাকাও ঘরে তুলতে পারবেন না তিনি। এতে হতাশ ওই দরিদ্র কৃষক। এদিকে তার আপ্যায়ন বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে পনের হাজার টাকা। জমানো এবং কিছু টাকা ধার করে স্বেচ্ছায় গ্রামবাসীদের আপ্যায়ন করিয়েছেন তিনি-এমনটাই জানান ফকির জহুরুল।

ইউপি সদস্য রেজাউল করিম, সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসা চাকুরিজীবি খাকছার হোসেনসহ সবার মুখেই ছিল একইরকম সুর। তারা বলেন, ফকির জহুরুল দরিদ্র হলেও উদার মানসিকতার মানুষ। গ্রামের সবার সঙ্গে তার খুব ভাল সম্পর্ক। শ্রমিক সংকটে তিনি ধান কাটতে পারছেন না বিষয়টি জানার পর আমরা গ্রামবাসীরা মিলে উদ্যোগ নিয়ে ধান কেটে দেই। আমরা ওই দরিদ্র কৃষক পরিবারটির সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে কাউকে না জানিয়ে সে বিশাল খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা কোনো মতেই ঠিক করেনি।

এ ব্যাপারে ফকির জহুরুল জানান, মাঠ থেকে সবাই যখন ধান কেটে ঘরে তুলেছিলেন তখন একমাত্র আমার জমিতে ধান পেকে নষ্ট হচ্ছিল। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছিলাম না। গ্রামবাসীরা আমার উপকার করেছেন। একসময় মহাধুমধামে গ্রামবাংলায় এভাবেই ধান কাটা হতো। উৎসবের মধ্যে দিয়ে গ্রামবাসীরা মিলে গৃহস্থের ধান কেটে দিতেন। সবাই নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতো। কিন্তু এখন সেই প্রচলন নেই। টাকা আজ আছে কাল নেই। মানুষের ভালবাসা টাকার সাথে মেলানো যাবে না। কৃতজ্ঞতা স্বরুপ তাদের জন্য খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করেছেন বলে জানান কৃষক জহুরুল।






Related News

Comments are Closed