Main Menu

আমতলীতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে জালিয়াতি খাতা পূনঃ মূল্যায়নের দাবীতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্বারকলিপি প্রদান

মো.মিজানুর রহমান নাদিম,বরগুনা প্রতিনিধি :বরগুনার আমতলীতে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপÍরের মহাপরিচালক ও বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন আমতলী পৌরসভার দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
রবিবার দুপুর ১টায় উপজেলা পরিষদ চত্তরে আমতলী পৌরসভার বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেয়।

মানববন্ধন কর্মসূচীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষায় আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে অংশ নেয়া রোল নং ১ থেকে ১৪ পর্যন্ত পরীক্ষার্থীরা কেহ জিপিএ- ৫ পায়নি। এটিকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র বলে তারা অভিহিত করেন।

অপরদিকে আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের মার্ক কমিয়ে দেওয়ার কারনে অনেক ভাল শিক্ষার্থী জিপিএ -৫ পায়নি বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন। এ জন্য তারা আমতলীর একটি প্রাইভেট বিদ্যালয়কে দায়ী করেন।

অভিভাবক জাকিয়া বেগম বলেন, বরগুনা জেলার যেখানে বসে উত্তরপত্র দেখা হয়েছে আমতলীর সেই প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেখানে যোগাযোগ করে উৎকোচের মাধ্যমে তাদের শিক্ষার্থীদের মার্ক বাড়িয়ে জিপিএ- ৫ পাইয়ে দিয়েছেন। বন্দর মডেল ও একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মার্ক কম দেওয়ার কারনে এ দুটি বিদ্যালয়ে জিপিএ- ৫ কম পেয়েছে। তাদের সন্তানদের খাতা পুনঃমূল্যায়ন করা হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে এবং বহু শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত ফলাফল অর্জিত হবে।

অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, একটি স্বার্থন্বেষী মহল জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করে তাদের স্কুলের সুনাম ধরে রাখার চষ্টা করছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভেঙ্গে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, এরকম ঘটনা প্রায় প্রতি বছরই হয়ে থাকে। এমতাব্যবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে এবং এ সকল অন্যায়ের বিচার চেয়ে তারা তাদের সন্তানদের খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবী করেন।
মানববন্ধন শেষে অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনের মাধ্যমে মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

আমতলী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়ের ০১ থেকে ১৪ নং রোল পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমতলীর শিক্ষক মহলের কেউ জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের ফলাফল পরিবর্তন করেছেন।

আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্বারকলিপি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ১৯ জন, একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে ২৫ ও আঁচল আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে থেকে জিপিএ – ৫ পেয়েছে ২৯ জন।






Related News

Comments are Closed