আজ ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে নামছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৫১:০৮,অপরাহ্ন ১৪ জুলাই ২০১৯ | সংবাদটি ১৮ বার পঠিত

খেলাধুলা ডেস্ক : কার আক্ষেপ ঘুচাবে এ বিশ্বকাপ? ইংল্যান্ড না নিউজিল্যান্ডের। আর কয়েক ঘণ্টা পরই হয়তো জানা যাবে। লর্ডসের ফাইনালে যে জয় পাবে, সে দল নতুন প্রথমবারের মতো শিরোপা অর্জন করার গৌরব অর্জন করবে। অথচ দুটি দলেরই বিশ্বকাপ নিয়ে রয়েছে বহু পুরনো আক্ষেপ। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের। ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু বিশ্বকাপের। ওই বছরসহ টানা তিন আসর ইংল্যান্ডেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ তিনবারের একবার ফাইনাল খেলেও বিশ্বকাপ পায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যেতে হয়েছে।

অথচ প্রতিটা আসরেই হট ফেভারিট থাকে ইংল্যান্ড। বিশেষ করে ক্রিকেটের সূচনা যে স্থানটি থেকে সেখানেই তো ক্রিকেট চর্চা বেশি থাকার কথা। এখনো ইংল্যান্ডেই ক্রিকেট চর্চা বেশিই হচ্ছে। কাউন্টি ক্রিকেট সমমানের এখনো করতে পারেনি কোনো দেশ। যেহেতু ঘরোয়া ক্রিকেট শক্তিশালী, ক্রিকেট স্ট্রাকচারও সবার চেয়ে এগিয়ে। তাইতো ইংল্যান্ড সব আসরেই থাকে এগিয়ে। এটা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু শিরোপা অধরাই রয়ে গেছে সে সূচনা থেকেই। অথচ একই সাথে যারা ক্রিকেট শুরু করেছিল বা যারা তার পরেও শুরু করেছে তাদের মধ্যেও অনেকে শিরোপা তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা রয়েছে। ইংল্যান্ড ব্যর্থ প্রতিবারই। একই অবস্থা তাদের ফুটবলেও। ইংরেজদের কাছে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের গুরুত্ব বেশি হলেও সেখানেও তারা ব্যর্থ শিরোপা নিতে। ক্রিকেটেও আক্ষেপ।

এবার সে আক্ষেপ ঘুচানোর পালা। ইয়ন মরগানের হাত ধরে এবার শিরোপা জেতার মিশন তাদের। অবশ্য যেভাবে এ আসরে খেলছেন তারা ইতোপূর্বে এতটা নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি। দলটি সব দিক থেকেই ব্যালান্সড এবং যোগ্যতর দল হিসেবেই ফাইনালে উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে অন্তত ৭৫ শতাংশ এগিয়ে তারা প্রতিপক্ষের তুলনায়। যেমনটা খেলছে দলের ব্যাটসম্যানরা তেমন বোলাররাও। নিজেদের মাঠে, নিজেদের কন্ডিশনে এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে ক্রিকেট খেলতে আর দেখা যায়নি তাদের। ফলে এবার শিরোপা তুলে নেয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটি। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সংমিশ্রণে গড়া দলটির পক্ষে সম্ভবও। তা ছাড়া এটা তাদের বড় একটা সুযোগও। নিজের মাঠে এবার যদি সেটা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে খেসারত তাদের কত দিন পর্যন্ত গুনতে হবে, সেটা তারাও একেবারে কম জানেন না!

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডও সেই সূচনা বিশ্বকাপ থেকেই খেলে আসছে। প্রতিবারই ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে ব্যর্থ হয়। এটা তাদের দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলা। ২০১৫ সালেও তাদের বিশাল সুযোগ ছিল। কেননা গ্রম্নপ পর্যায়ে ওই আসরে নিউজিল্যান্ড যে ক্রিকেট খেলেছিল, সেটা এক কথায় চমৎকার। ছন্দপতন ঘটেনি কোনো ম্যাচেই। গ্রম্নপপর্বে অস্ট্রেলিয়াকেও নাজেহাল করে ছেড়েছিল তারা। কিন্তু মেলবোর্নের ফাইনালে একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ করে কাঁদিয়েছিল তারা কিউইদের। এখনকার অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও সুবিধা করতে পারেননি সে ম্যাচে।

এবারো তারা খেলছে ফাইনাল। ফলে দু’দলের সাপোর্টারদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। হারতে চাইবে না কেউই। কিন্তু এক দলকে তো হারতেই হবে। যদি কন্টিনিউ বৃষ্টি না থাকে দুই দিন। বৃষ্টির জন্য যদি খেলা একেবারেই (২০ ওভার হলেও) না হতে পারে, তাহলে হয়তো যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা দেবে আইসিসি। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত তো এক দলকে হারতেই হচ্ছে। কে হারবে তাহলে? এ জল্পনা চলছে। আর শেষ হাসিটা কার ইংলিশ না কিউইদের!

About rezwan rezwan

https://gnogle.ru/project/edit/102
WP2FB Auto Publish Powered By : XYZScripts.com