Main Menu

আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা দেশ থেকে পালিয়েছেন

হলিবিডি ডেস্কঃ : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান, দক্ষিণের যুবলীগ নেতা ও কমিশনার মোমিনুল হক সাঈদ, এমপি নুরুন্নবী শাওনসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার যারা এই শুদ্ধি অভিযানের সঙ্গে জড়িত তারা বলেছেন, উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তারা যেখানেই পালিয়ে থাকুক না কেন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে তারা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অভিযানে যারা জড়িয়ে পড়বেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তারা শুরুতেই গা ঢাকা দিয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান। তিনিই ছিলেন যুবলীগের কমিটি বাণিজ্য এবং অন্যান্য অপকর্মের অন্যতম হোতা। তার কারণেই যুবলীগের চেয়ারম্যানের বদনাম হয়েছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র বলছে যে, শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই ২০ কিংবা ২১ তারিখ আনিসুর রহমান পালিয়ে ভারতে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল আনিস হয়তো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তত্বাবধানে আছে। কিন্তু পরবর্তীতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজড় এড়িয়ে তিনি দেশত্যাগ করেছেন।

মোমিনুল হক সাঈদ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই সিঙ্গাপুরে ছিলেন। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন হয়। এরপর তিনি সিঙ্গাপুর থেকে আর ফেরেননি। উল্লেখ্য যে, সাঈদের সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোসহ নানা রকম ব্যবসা রয়েছে।

যুবলীগের নেতা এবং সংসদ সদস্য নুরুন্নবী শাওন শুদ্ধি অভিযানের সময় দেশের বাইরে ছিলেন। শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যাংক আকাউন্ট হিসাব তলব করা হয়। এরপর থেকে তিনি দেশে আসছেন না। এছাড়াও শুদ্ধি অভিযানে এনামুল হক অনু এবং রুপণ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তাঁদেরকে বাসায় পাওয়া যায়নি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ধারণা করছে, এনামুল হক অনু পালিয়ে থাইল্যান্ডে চলে গেছে। তবে রুপণ ভুঁইয়া কোথায় আছেন সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত নয়।

যারা বিভিন্ন সময় দলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্মের সঙ্গে নিজেদেরকে জড়িয়েছিলেন এবং টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনোবাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িত তারা শুদ্ধি অভিযান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তারা মনে করছেন যে, যদি পরিস্থিতি উন্নতি হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে তারা দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু আইন প্রয়োগাকারী সংস্থা বলছে যে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগাকারী সংস্থা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তারা যদি দেশে না থাকে, আইনের আশ্রয় গ্রহণ না করে তাহলে তাদের অনুপস্থিতেই তাদের বিরুদ্ধে বিচার হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুরসণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুদ্ধি অভিযানে যারা দেশত্যাগ করেছেন তাদের তালিকা দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এববং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।






Related News

Comments are Closed